
মোঃ শরিফ উদ্দিন বাবু, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরে আদালত চলাকালে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আদালতে কর্মরত অন্যান্যদের মিষ্টিমুখ করানোর জন্য ২ প্যাকেট মিষ্টি নিয়ে যান সামিউল ইসলাম সোহান নামে এক ভন্ড নামধারী সাংবাদিক। বিষয়টি কোন অবস্থাতেই আইনসঙ্গত নয় বিদায় তাকে আটক করা হয়। পরবর্তী তার পিতার জিম্মায় এবং মুচলেকার মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
আদালতসূত্রে জানা যায়, শেরপুর সদরের জিআর ৪৩৬/১৭ মামলায় সোহরাব আলী (৫৬) কে ১ বছর ৬ মাস ও ছানোয়ার হোসেন (৫০) কে ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন আদালত। এবং ৬ জন আসামির মধ্যে ৪ জনকে খালাস দেয়া হয়। আদালতের রায়কে সন্তুষ্ট হওয়ায় তিনি ম্যাজিস্ট্রেট ও অন্যান্য স্টাফদের খুশি করতেই আদালত চলাকালে মিষ্টি নিয়ে যান। যা কোন অবস্থায় আইনসঙ্গত নয়। বিষয়টি নিয়ে আদালত পাড়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, সামিউল ইসলাম সোহান দীর্ঘদিন থেকে আদালত প্রাঙ্গনে সন্দেহজনক চলাফেরা করে আসতে ছিলেন এবং বিভিন্ন মামলায় তদবির করে আসতে ছিলেন। আওয়ামী লীগ পরিবারে বেড়ে উঠা সামিউল ইসলাম সোহান নিজেকে বিভিন্ন মামলা থেকে আত্মরক্ষার জন্য সাংবাদিকতায় নাম লেখান। তার আপন বড় ভাই সুজিবুল আলম সুজন আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা ও “জুলাই বিপ্লবে শহীদ মাহবুব হত্যা মামলায়” এজাহারভুক্ত আসামি । দীর্ঘদিন থেকে সে আত্মগোপনে থাকায় সাংবাদিক পরিচয়ে তার ব্যবসা বানিজ্য ও নিয়মিত সরকারি বেসরকারি টেন্ডারে সরাসরি অংশ নিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি সাংবাদিক মহলে এখন অপেন সিক্রেট।
এঘটনায় কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. জিয়াউল হক জানান, ভবিষ্যতে অযথা /অপ্রয়োজনে আদালত প্রাঙ্গনে না আসার শর্তে বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুলতান মাহমুদ তার পিতার জিম্মায় মুক্তি প্রদান করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোহান বিচারালয়ের কোনো কর্মচারী নন, তবুও প্রতিদিন আদালত চত্বরে অবাধ বিচরণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ফারজানা আক্তারের সহায়তায় অফিসের গোপন ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে তা ফাঁস করছেন। এই তথ্যসমূহ রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ও পলাতক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এছাড়াও জানা গেছে, সোহান অতীতে একটি রাজনৈতিক দলের সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং বর্তমানে ভন্ড নামধারী সাংবাদিক সেজে অপসাংবাদিকতায় জড়িত। তার বিরুদ্ধে তথ্য বিভ্রাট ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগও রয়েছে। উল্লেখ্য চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অফিস সহায়ক ফারজানা আক্তার শান্তা তার স্ত্রী ছিলো।

আরও পড়ুন
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ
নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত পরিবারে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান
দশ মাসের আত্মগোপনের অবসান: র্যাবের অভিযানে ধরা মমিনুল হত্যা মামলার আসামি