
কালিমুল্লাহ ইকবাল :
কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদানের দাবিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন ঐক্য পরিষদ (বিকপ) ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুর প্রাইভেট স্কুল এসোসিয়েশন – টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা শাখা এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মূল কর্মসূচি টঙ্গী প্রেসক্লাবের সামনে হলেও মানববন্ধনটি বিস্তৃত হয় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী বাজার থেকে বড়বাড়ি তারগাছ পর্যন্ত। এতে অংশ নেন টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানাধীন প্রায় দুই শতাধিক কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষক, শিক্ষিকা এবং কয়েক হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থী।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা হাতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে স্লোগান দেন।
সভাপতিত্বে ছিলেন টঙ্গী পূর্ব থানার গাজীপুর প্রাইভেট স্কুল এসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল মতিন।
বক্তব্য রাখেন টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক প্রভাষক বসির উদ্দিন, সংগঠনের পশ্চিম থানা সভাপতি মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মজিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম জনি, পূর্ব থানার সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন হাওলাদার অর্থ সম্পাদক সোহেল ভূঁইয়া প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষায় সরকারি স্কুলগুলোর পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যুগান্তকারী ভূমিকা রেখে চলেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র শিক্ষাদানই নয়, দেশের বেকার সমস্যা নিরসনেও অসামান্য অবদান রাখছে।”

তবে গত ১৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত একটি পরিপত্রে বলা হয়, আগামী বৃত্তি পরীক্ষায় শুধুমাত্র সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই অংশ নিতে পারবে। এতে বঞ্চিত হচ্ছে হাজার হাজার মেধাবী ছাত্রছাত্রী, যা চরম বৈষম্য এবং বিচারের পরিপন্থী।
বক্তারা আরও বলেন, “বৃত্তি শুধু অর্থনৈতিক অনুদান নয়, এটি একজন শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস, মেধার স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের অনুপ্রেরণা। কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হলে মানসিকভাবে তারা ভেঙে পড়বে এবং অভিভাবকরাও বিপন্ন হয়ে পড়বেন।”
তারা সরকারের কাছে দাবি জানান, এই বৈষম্যমূলক পরিপত্র অবিলম্বে বাতিল করে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনি আমাদের অভিভাবক কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে অনতিবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। যাতে আমরা বাধ্য না হই বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে।”
শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো ধরনের বৈষম্য কাম্য নয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মানবিক বিবেচনায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং সকল শিক্ষার্থীর জন্য একটি সমঅধিকারের শিক্ষানীতি প্রণয়ন করবেন।