
মিজানুর রহমান, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
চার কিলোমিটার পথ বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুলে গিয়ে পড়াশুনা করে এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন অদম্য মেধাবী আফিয়া ইবনাত ঐশি। এখন মেধাবী শিক্ষার্থী ঐশির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, কারণ কলেজে ভর্তি ও পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়া নিয়েই শঙ্কায় তার পরিবার। বাবা-মা পড়াশোনা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার সমর্থন নেই।
সে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের জহির মোড় এলাকার আলতাব হোসেন ও নাজমা বেগমের দ্বিতীয় সন্তান। ঐশির বাবা একজন বেকার বর্গা চাষী। জায়গা জমি বলতে বাড়ি ভিটা ছাড়া কিছুই নেই। মা নাজমা বেগম মেয়ে ঐশির পড়াশোনার জন্য টিউশনি করে যে টাকা আয় করেন তা দিয়ে মেয়ের পড়াশোনার খরচ যোগান। পরিবারে দুই মেয়ে। প্রথমে ঢাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যানরত। দ্বিতীয় মেয়ে ঐশী এবার এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছেন। অভাব-অনটনে কষ্টে চলে তাদের সংসার। দুই মেয়ের পড়াশুনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবার।
আফিয়া ইবনাত ঐশি এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় হাতীবান্ধা সরকারি সহর উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ন থেকে।
তবে সাফল্যের এই গল্পে এখন এক টুকরো কষ্টের ছাঁয়া। কলেজে ভর্তি হওয়া ও উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে ঐশির পরিবার। আর্থিক সামর্থ্য নেই, নেই প্রয়োজনীয় বই-খাতা কিংবা কোচিংয়ের সুযোগ।
ঐশির মা-বাবার এখন একটাই আকুতি—যদি কোনো সরকারি বা বে-সরকারি সংস্থা আমার মেয়ে পাশে দাঁড়াতেন তাহলে সে হয়তো উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।
আফিয়া ইবনাত ঐশী বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আমি বাড়ি থেকে বাইসাইকেলে ৪ কিলোমিটার দূরে গিয়ে হাতীবান্ধা সরকারি সহর উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় পড়াশোনা করেছি। শত কষ্টের মাঝে আমি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছি এসএসসিতে সাফল্য অর্জন করেছি। এখন আমার স্বপ্ন আমি পড়াশোনা করে ডাক্তার হবো। কিন্তু পরিবারের দারিদ্রতার কারণে সেই স্বপ্ন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
হাতীবান্ধা সরকারি সহর উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে আবু তাহের বলেন, ঐশী অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী। তার সাফল্য কামনা করি। সে অনেক পরিশ্রম করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থা তার পাশে দাঁড়ালে সে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম মিঞা বলেন, অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে আমরা রয়েছি। তার পড়ালেখার ক্ষেত্রে যেকোনো সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন তার পাশে থাকবে। পাশাপাশি বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান করছি।