হোম » সারাদেশ » নুহাশ পল্লীতে নানা আয়োজ‌নে হুমায়ুন আহমেদের ১৩তম মৃত্যু বার্ষিকী পা‌লিত

নুহাশ পল্লীতে নানা আয়োজ‌নে হুমায়ুন আহমেদের ১৩তম মৃত্যু বার্ষিকী পা‌লিত

আব্দুর রউফ রুবেল, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
বাংলা সাহিত্যের নন্দিত কথাশিল্পী, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের আজ ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী । ২০১২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন নন্দিত এই কথাশিল্পী।

শনিবার (১৯ জুলাই) গাজীপুরের পি‌রোজালীর নুহাশপল্লীতে নানা আয়োজ‌নে দিবস‌টি পা‌লন করা হ‌চ্ছে ।

হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ফয়েজুর রহমান, মাতার নাম আয়েশা ফয়েজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকে তাঁর লেখালেখি শুরু হয়।

নুহাশপল্লীর তত্ত্বাবধায়ক সাঈফুল ইসলাম জানান, দিনটি উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও তাঁর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, দুই পুত্র নিষাদ ও নিনিত হুমায়ূনকে নিয়ে নুহাশপল্লীর লিচু তলায় হুমায়ুন আহ‌মে‌দের কব‌রে পুস্পস্তবক অর্পন ক‌রেন । এময় হুমায়ুন ভক্তরাও উপ‌স্থিত ছি‌লেন ।

হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, হুমায়ূন আহমেদের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ও স্বপ্নের মত ছিল, তার লেখা পেঙ্গুইন পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত হবে, আমরা সম্প্রতি পেঙ্গুইনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি এখন থেকে হুমায়ূন আহমেদের বিভিন্ন বই বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ হয়ে প্রকাশ হবে, যেটা হুমায়ূন আহমেদের স্মৃতিকে ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

হুমায়ূন আহমেদের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে মধ্যাহ্ন, জোছনা ও জননীর গল্প, দেয়াল, মাতাল হাওয়া, শঙ্খনীল কারাগার, শ্রাবণ মেঘের দিন, গল্প, কবি, লীলাবতী, গৌরীপুর জংশন, এইসব দিনরাত্রি ইত্যাদি। উপন্যাসে তিনি তৈরি করেছেন হিমু, মিসির আলী, শুভ্রের মতো কালজয়ী চরিত্র। এসব চরিত্র প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অব্যাহতভাবে জনপ্রিয়।

টিভি নাট্যকার হিসেবেও হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন অনন্য। গত শতকের আশির দশকের মাঝামাঝি প্রচারিত তাঁর লেখা ধারাবাহিক নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’ দিয়ে টিভি দর্শকের হৃদয় জয় করে নেন তিনি। নাটক ছাড়াও তিনি সিনেমা নির্মাণে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর পরিচালিত সিনেমার মধ্যে ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ এবং ‘ঘেঁটুপুত্র কমলা’ বিশেষভাবে প্রশংসিত।

সংখ্যায় বেশি না হলেও তাঁর লেখা গানও সমানভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৪ সালে তিনি পেয়েছেন একুশে পদক। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কারসহ পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!