
মো:রাফাত হোসেন, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে গত বৃহস্পতিবার (১০ই জুলাই) দুপুর ২টায়। ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ উপজেলায় পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মোট ২৩৮৭ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ১৭০০ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ৬৮৭ জন অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে উপজেলার গড় পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৭১ দশমিক ২১ শতাংশ। এ বছর মোট ২৫৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ অর্জন করেছে।
উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফলাফলের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে সলিমুন্নেসা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৮২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ১৭৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। ফেল করেছে মাত্র ৮ জন। পাশের হার ৯৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫১ জন শিক্ষার্থী।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কালুখালী মধুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যেখানে ৪৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৩ জন পাস করেছে, ফেল করেছে ২ জন এবং ২ জন পেয়েছে জিপিএ ৫। পাশের হার ৯৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে উপজেলার একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ‘সরকারি নলডাঙ্গা ভূষণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়’। এই প্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছে ১০৫ জন পরীক্ষার্থী, এর মধ্যে ১০০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, ফেল করেছে ৫ জন এবং জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪১ জন। পাশের হার ৯৫ দশমিক ২৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, সবচেয়ে কম পাশের হার গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। এখানে ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, ফেল করেছে ২০ জন। পাশের হার ৩৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: মোবারকগঞ্জ সুগার মিল বিদ্যালয় (৭৭ জন অংশগ্রহণকারী, ৬৮ জন পাস, ২৬ জন জিপিএ ৫, পাশের হার ৮৮ দশমিক ৩১ শতাংশ), কোলাবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৫৫ জন অংশগ্রহণকারী, ৮২ জন পাস, ৭৩ জন ফেল, ২০ জন জিপিএ ৫, পাশের হার ৫২ দশমিক ৯০ শতাংশ), হট বরোবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১১২ জন অংশগ্রহণকারী, ৮৬ জন পাস, ২৬ জন ফেল, ১২ জন জিপিএ ৫)। বারোবাজার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে। বিসিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৭ জন শিক্ষার্থী।
ফলাফলের পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, কিছু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো ফলাফল করলেও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। এ বিষয়ে অভিভাবক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে ভালো ফলাফলের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, অন্যদিকে খারাপ ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কিছু অভিভাবক।