
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার সদ্য সাবেক মেয়র আলী আকসাদ ঝন্টু'র বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার বিকালে গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট এক বক্তব্যে তিনি বলেন, আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকার বাসিন্দা মাসু মিয়া ও মো. দেলোয়ার নামে দুই ব্যক্তির জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে সেখানে আমাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যাচার করা হয়েছে। এসময় তিনি প্রকৃত ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করেন।
আলী আকসার ঝন্টু বলেন, আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে ৪৯ নং মৌজা, বিএস: ২৫ নং দাগের ৪১ শতাংশ জমির মধ্যে ১৩ শতাংশ জমির রেকর্ডীয় মালিক বুড়াইচ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত মকিবুল হাসান পুটু মিয়ার ভাই মুজিবুল হাসান। কিন্তু ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ওয়ারিশ সূত্রে মুজিবুল হাসানসহ তার দুই বোনের অংশ এবং খাজনা রশিদে উল্লেখ থাকে যে, দোকান বাণিজ্যিক সেইক্ষেত্রে জায়গা মূল্য নির্ধারণ করে রুকাইয়া সুলতানা ও তানিয়া পারভীনের নিকট বিক্রয় করেন।
এরপর রুকাইয়া সুলতানা ও তানিয়া পারভীন তাদের নিজ নামে খাজনা রশিদ ও নামজারি করেন। পরে দখল বুঝিয়ে পাওয়ার জন্য তৎকালীন আলফাডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদুল হাসান ও সাবেক পৌরসভার মেয়র সাইফুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের সম্মতিক্রমে ক্রয়কৃত ও নামজারীকৃত ১৩ শতাংশ জমির মধ্যে ১১ শতাংশ জমির ভোগদখল বুঝিয়ে দেন। অবশিষ্ট ২ শতাংশ জমি স্থাপনা থাকার কারণে এবং পরবর্তীতে রেকর্ড সংশোধনী হওয়ার আশঙ্কা থাকায় স্থিতিশীল থাকে। এরপর রুকাইয়া সুলতানা ও তানিয়া পারভীন ওই ১১ শতাংশ জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণ করেন।
কিছুদিন পরে ১১ শতাংশের জমির মধ্যে রুকাইয়া সুলতানার অংশ অর্থাৎ সাড়ে ৫ শতাংশ জমি আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকার বাসিন্দা প্রবাসী মো. দেলোয়ারের নিকট বিক্রয় করে দেন। এরপর দেলোয়ার তার নিজ নামে ওই জমির খাজনা রশিদ ও নামজারী করে নেন। দীর্ঘদিন পরে দেলোয়ার দেশে আসার পরে ওই জমিতে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। কাজ শুরু করার কিছুদিন পরে ওই জমিতে বুড়াইচ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত মকিবুল হাসান পুটু মিয়ার ছেলে মাসু মিয়া তার পৈত্রিক জমিতে যাতায়াতের রাস্তা বুঝিয়ে পাওয়ার জন্য আদালতে মামলা করেন। এরপর আদালত ওই জমিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেন।
সদ্য সাবেক মেয়র আলী আকসার ঝন্টু বলেন, মূলত রুকাইয়া সুলতানা আমার আত্নীয় হওয়ার সুবাদে এই জমি ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়টি আমি অবগত। কিন্তু আমাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার করা হয়েছে। আমি এই মিথ্যা অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ভবিষ্যতে এধরণের মিথ্যা অপপ্রচারকারীর বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।