প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৬:৩৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৮, ২০২৫, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে কাঁঠালের বিচি বিক্রি করেই জীবিকা

আব্দুর রউফ রুবেল, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল। কিন্তু বর্তমানে অনেকের কাঁঠাল খাওয়ার প্রতি রয়েছে অনীহা।আবার কাঁঠালের বিচি অনেকের খুবই প্রিয়। বর্তমানে কাঁঠালের ভরা মৌসুম। আর এসময় কাঁঠালের বিচি সংগ্রহ করে বাজারজাত করছেন অনেক ব্যবসায়ী।
পুষ্টিগুণে ভরপুর সুস্বাদু কাঁঠালের বিচি বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছে গাজীপুরের শ্রীপুরের কয়েকজন ব্যাবসায়ী । দলবেঁধে গ্রামে গ্রামে ঘুরেঘুরে কাঁঠাল বিচি সংগ্রহ করেন এই ব্যাবসায়ীরা।পরে ভালোভাবে পরিস্কার করে শুকিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে চলে যাচ্ছে কাঁঠালের বিচি । এতে করে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শ্রীপুর উপজেলার কাউরাইদ ইউনিয়নের যোগীরসিট গ্রামের কাঁচামাল ও মৌসুমি ফল ব্যাবসায়ী আইনুল হক ও গাজী মাহমুদসহ ৮জন ব্যবসায়ী কাঁঠালের বিচির ব্যবসা শুরু করেন। গ্রাম থেকে ঘুরেঘুরে কাঁঠাল বিচি সংগ্রহের পর সেগুলো বাছাইয়ের কাজ করছেন। পরিস্কার পানি দিয়ে একটি হাউজের মধ্যে ধুয়ে সেগুলো রোদে শুকিয়ে প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করার কাজ করছে। পঁচা বিচিগুলোকে আলাদা করা হচ্ছে। ভালো বিচিগুলো হুইল পাউডার দিয়ে ধোঁয়ার কাজ করছে কয়েকমাস জন। পানিতে ভালোভাবে ধোঁয়ার পর সেগুলো রোদে শুকানোর পর বস্তাভর্তি করে বাজারজাত করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আমাদের শ্রীপুরে প্রচুর পরিমাণ কাঁঠাল জন্মায় । তবে কাঁঠাল বিচি তেমন গুরুত্ব দিয়ে কেউ সংরক্ষণ করে না। এবছর থেকে কাঁঠাল বিচি বিক্রি করতে পারায় বাড়ির মহিলারা কাঁঠাল বিচি যত্ন করে সংগ্রহ করে। সেগুলো বিক্রি করে ভালো টাকা পাওয়া যাচ্ছে।
ব্যবসায়ী আইনুল হক বলেন, আমরা আটজন ব্যবসায়ী কাঁঠাল বিচির ব্যবসা করছি। এ কাজের জন্য আমরা কিছু লোককে আমাদের কাজে যুক্ত করেছি। আমরা তাদের টাকাপয়সা দিয়ে গ্রামে পাঠিয়ে দেয় কাঁঠাল বিচি সংগ্রহ করতে। সপ্তাহে তিনদিন ধোঁয়া বাছাইয়ের কাজ চলে। ৪থেকে ৫টন কাঁঠাল বিচি সংগ্রহ হলে সেগুলো একসঙ্গে ধোঁয়ার পর রোদে শুকিয়ে বাজারজাত করা হয়।
ব্যবসায়ী গাজী মাহমুদ বলেন, যেখানে কাঁঠাল বিচিগুলো স্থানীয় বাসিন্দারা ফেলে দিতো সেগুলো আমরা কেজি দরে ক্রয় করছি। তাতে করে তারাও লাভবান হচ্ছে। গ্রাম থেকে সংগ্রহ করা কাঁঠাল বিচি প্রক্রিয়াজাত করে ঢাকার কাওরান বাজার ও শ্যাম বাজারসহ কয়েকটি বাজারে বিক্রি করা হয়। প্রতিকেজি কাঁঠাল বিচি ১৭ থেকে ১৮ টাকা কেজি বিক্রি হয়।
কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুন। কাঁঠালের বিচি শরীরে শক্তি সঞ্চয়ের পাশাপাশি নার্ভস সিস্টেম, হৃদ্যন্ত্র, মস্তিষ্ক, অন্ত্র, মাংসপেশি ইত্যাদির রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। এ ছাড়া এতে ম্যাগনেশিয়াম যথেষ্ট পরিমাণে থাকে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, শ্রীপুরে কাঁঠালের বিচি সংগ্রহ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি হচ্ছে। এটা খুবই ভালো একটা সংবাদ। এটি কিভাবে আরও বেশি প্রসারিত করে ছড়িয়ে দেয়া যায় কৃষি বিভাগের পক্ষে উদ্যোগ নেয়া হবে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.