
মোঃ এখলাস শেখ,মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ পৌরসভাটি প্রায় ৬ বর্গকিলোমিটার নিয়ে গঠিত। পানগুছি নদীর তীরবর্তী উপকূলীয় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ পৌর সভাটি ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর "সি" গ্রেডে'র কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ‘এ’ গ্রেডে'র পৌরসভায় উন্নীত হলেও শহরের সড়কগুলোতে পরিবর্তনের ছোয়া লাগেনি।
যেমনি রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। তেমনি ড্রেনেজ, সড়ক বাতিসহ তেমন কোন উন্নয়নে লক্ষ্য করা যায়নি এ পৌরসভায়। মোরেলগঞ্জ পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তা দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বেহাল দশা মোরেলগঞ্জ পৌরসভার বেশিরভাগ সড়কের। এমনকি পৌরসভার সামনের রাস্তাটিও ভাঙা যা নিয়ে সমালোচনা করছে সাধারণ মানুষ। প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে পানিবদ্ধতার সৃস্টি হয়। পানি জমে সড়কের পিচগুলো নস্ট হয়ে তৈরি হয় ছোট-বড় গর্ত। এতে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের এমন অবস্থা হলেও সংস্কারে উদ্যোগ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্টরা। ফলে পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। যানবাহন তো দূরে থাক, পায়ে হেঁটে যাওয়াই দুষ্কর। খানাখন্দে ভরপুর গোটা সড়কগুলো। ঠিকমত ভ্যানও চলাচল করতে পারছে না। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসীসহ এই শহরে আসা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ।
গত দুই দিনের টানা বর্ষণে অধিকাংশ সড়কগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে ও ড্রেনগুলোতে পঃয় নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কারনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে নিম্নঅঞ্চল প্লাবিত হয়ে বসতবাড়িতে পানি ঢুকে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহনের।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, মেইন সড়কে ৬/৭টি ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও তা নিয়মিত পঃয়নিস্কাশন না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি জমে গিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। যে কারনে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীর। কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে পৌরবাসী। নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করেও পৌরবাসী পায়নি সুপেয় পানি, ড্রেন, সড়ক বাতি, নির্ধারিত ডামপিং স্টেশন না থাকায় যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার স্তৃপ করে ফেলা রাখা হচ্ছে সড়কের পাসেই। দুগন্ধ পোহাতে হচ্ছে পথচারিদের।
এদিকে মেইন সড়কগুলোতে কর্মকার পট্টি হয়ে নব্বইরশি বাসস্ট্যান্ড অভিমুখি প্রায় এক কিলোমিটার কার্পেটি রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে খানা খন্দ, নব্বইরশি বালুর রাস্তাসহ অধিকাংশ রাস্তাগুলো এখন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গত দুই দিনের একটানা ভারী বর্ষণে সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটে দূরের কথা ভ্যান, ইজিবাই, মোটরসাইকেলে চলাচলেও দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
বাসস্ট্যান্ড ব্যবসায়ী মোঃ জসিম হাং, মোঃ শাহ-জালাল, পথচারি মোঃ শফিকুল বলেন, আর কতদিন এ দুর্ভোগ পোহাতে হবে?। ‘এ’ গ্রেডের পৌরসভার এরকম চিত্র হয়তো আর কোন জেলায় নেই। পৌর প্রশাসকের প্রতি সড়কগুলো পুনঃনির্মাণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করে বাসিন্দাদের দুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌরসভার প্রশাসক হাবিবুল্লাহ বলেন, মোরেলগঞ্জ পৌরসভার দীর্ঘদিনের এ সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য একটু সময় লাগছে। ইতোমধ্যে ড্রেনগুলোর পঃয় নিষ্কাশনের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সকড়গুলো উচুঁ করে পুনঃনির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অল্পতেই কয়েকটি রাস্তার কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।