প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১১:৩৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৭, ২০২৫, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
কালাই পৌরসভায় ২৪ বছরে হয়নি ডাম্পিং স্টেশন, জলাশয় হয়েছে এখন ভাগাড়

তারিকুল ইসলাম,কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: জয়পুরহাট জেলার কালাই পৌরসভা গঠিত হয় প্রায় ২৪ বছর আগে। অথচ দীর্ঘ এই সময়ে পৌর এলাকায় একটি নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনও নির্মাণ হয়নি।ফলে পৌর এলাকার বাড়িঘর, হাসপাতাল, বাজার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে উন্মুক্ত জলাশয়ে, রাস্তার পাশে এবং জনগণের চলাচলের মুখ্য রাস্তায়। শহরের বুক চিরে প্রবাহিত উন্মুক্ত জলাশয়টি এখন ধীরে ধীরে বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে।
তথ্যবিবরণীতে জানা যায়, জয়পুরহাট জেলার প্রবেশদ্বারে ২০০১ ইং সনে ১২.৯২ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে কালাই পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক “গ”শ্রেণীর পৌরসভা হইতে ২০১৮ সালে “ক”শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে। ৯টি ওয়ার্ডে বর্তমানে এখানে প্রায় ২৪ হাজার মানুষের বসবাস।অথচ এত বছরের পথচলায় বর্জ্য ফেলানোর জন্য একটি ডাম্পিং স্টেশনও গড়ে ওঠেনি।এমনকি পৌরসভার নির্ধারিত জায়গাও নেই বর্জ্য ফেলার জন্য।
প্রতিদিন সকালে কালাই পৌরসভার একটি পিকআপ ভ্যানে করে বর্জ্য নিয়ে ফেলা হয় পাঁচশিরা বাজারের পূর্ব পাশে উন্মুক্ত জলাশয়ে এবং টিএন্ডটি এলাকায় জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কের পাশের খোলা জায়গায়।একইভাবে সড়াইল গ্রামের পূর্ব দিকে মহাসড়কের পাশে এমন চিত্র প্রতিদিনই দেখা যায়। দুর্গন্ধে এসব রাস্তা দিয়ে হাঁটাচলা করাও দায়। অনেকেই মুখে কাপড় চেপে চলাচল করেন। এমন পরিস্থিতিতে বাসিন্দারা প্রতিদিন রোগজীবাণুর ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।দুর্গন্ধ,ধোঁয়া ও বিষাক্ত বর্জ্যে শিশু,বৃদ্ধ ও অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।বিভিন্ন সময় এসব ময়লায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে আশপাশের পরিবেশ আরও বিপর্যস্ত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ময়লা ফেলার কারণে চার কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত উন্মুক্ত জলাশয় আজ দখল আর দূষণের শিকার।এই অবস্থায় ময়লা ফেলার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু সুবিধাভোগী জলাশয়ের জায়গা দখল করে নির্মাণ করছে রাস্তা,বাড়ি ও দোকানঘর।তারা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই জলাশয়টির অস্তিত্ব পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে এবং বিষাক্ত বর্জ্যে নষ্ট হয়ে যাবে এর প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র।
পাঁচশিরা এলাকার বাসিন্দা মো. হেলালউদ্দিন ও সালেহা বেগম বলেন, এই সড়কে চলতে গেলে দম বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিদিন কয়েকবার আমাদের বাজারে যাওয়া লাগে কিন্তু এই দুর্গন্ধ আর সহ্য করতে পারছি না। কালাই ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী তাসিন আরিফ বলেন,আমার দেখা প্রায় ১০ বছর ধরে এভাবেই সড়কের পাশে ময়লা ফেলা হচ্ছে। অনেকেই প্রতিবাদ করেছে, ফেসবুকে লিখেলেখি করেছে কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না।
সড়াইল গ্রামের বাসিন্দা আশরাফ হোসেন বলেন, উন্মুক্ত জলাশয় ও মহাসড়কের পাশে প্রতিদিন ময়লা ফেলা হচ্ছে, এটা সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর।দুর্গন্ধে পথচারীরা মুখে রুমাল চেপে চলতে বাধ্য হচ্ছেন। আমরা নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি জানাচ্ছি।
প্রবীণ শিক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, দুই দশক ধরে একটি পৌরসভার জন্য ডাম্পিং স্টেশন না থাকা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষার জন্য ডাম্পিং স্টেশন তৈরির যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার কয়েকজন পরিচ্ছন্নকর্মী জানান, তাদের বিকল্প কোনো স্থান দেখিয়ে দেওয়া হয়নি, কোথায় ময়লা ফেলবে সে বিষয়ে নির্দেশনাও নেই। তাই বাধ্য হয়েই তারা এভাবেই উন্মুক্ত জায়গায় ময়লা ফেলছেন।
পৌর প্রশাসক ও কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা আক্তার জাহান বলেন,আমরা জানি শহরটি ভবিষ্যতে বড় শহরে পরিণত হবে। সেই চিন্তা থেকেই পরিকল্পিতভাবে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের চেষ্টা চলছে। কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থ এবং জায়গার সংকটের কারণে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া যাচ্ছে না।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.