প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১১:৩৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৭, ২০২৫, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে রসায়ন বিভাগে মাস্টার্স শিক্ষার্থীরা ফেল

জাহিদ হাসান ঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০২২ সালের মাস্টার্স শেষ পর্বের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ২০২৫ সালের ৪ জুন। কিন্তু ফল প্রকাশের পর কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগে এক ব্যতিক্রমী ও অস্বাভাবিক চিত্র দেখা গেছে—এই বিভাগ থেকে অংশ নেওয়া ৯০ জন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। পুরো বিভাগের ফলাফল শূন্য হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে একে শিক্ষকদের গাফিলতি এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার ফলাফল বলেই মনে করছেন।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, মাস্টার্সের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয় ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এবং ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এপ্রিল মাসে। সব পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরও যখন ফলাফলে দেখা গেল কেউ উত্তীর্ণ হয়নি, তখন শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রশাসনের দ্বারস্থ হন।
একাধিক শিক্ষার্থী জানান, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়নি অথবা পাঠানো হলেও তা সঠিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি। ফলে ফলাফলে সেই নম্বর প্রতিফলিত হয়নি এবং সকলেই অকৃতকার্য হয়েছেন। শিক্ষার্থী তাসকিন আহমেদ বলেন, “ফলাফল দেখে আমরা হতবাক। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো কোনো কারিগরি সমস্যা হয়েছে, কিন্তু পরে জানতে পারি মৌখিক পরীক্ষার নম্বরই বোর্ডে জমা পড়েনি।”
একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ প্রান্ত বলেন, “স্যারদের থেকে শুনেছি সার্ভার সমস্যার কারণে ফাইল পাঠানো যায়নি। কিন্তু যদি তারা সময়মতো যাচাই করতেন, তাহলে আমরা এমন বিপদের মুখে পড়তাম না।”
রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রোকনুজ্জামান এই অভিযোগ আংশিক স্বীকার করে বলেন, “আমরা মৌখিক পরীক্ষার নম্বর অনলাইনে আপলোড করেছিলাম, তবে সার্ভার সমস্যার কারণে সেটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেটাবেইসে সংরক্ষিত হয়নি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমরা সেটি পুনরায় যাচাই করিনি। এটা আমাদের ত্রুটি। এখন ম্যানুয়ালি নম্বরশিট পাঠানো হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় আশ্বাস দিয়েছে এক সপ্তাহের মধ্যে এটি সংশোধন করে পুনরায় ফল প্রকাশ করা হবে।”
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক রুহুল আমীন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেছি এবং তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। যদি গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। যারা ইতোমধ্যে চাকরি বা উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করেছেন, তাদের জন্য এটি বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের পরিস্থিতি আর না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হতে বলছেন।
উল্লেখ্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পরীক্ষায় সারাদেশের ১৮০টি কলেজ থেকে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৫৯১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। উত্তীর্ণ হন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪৯ জন। এর মধ্যে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগে এমন বিপর্যয় জাতীয় পর্যায়ে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে নজর কেড়েছে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.