প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৭:৫৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৭, ২০২৫, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও সত্যতা মেলেনি

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এলজিইডি'র আওতায় একটি সড়কের সংস্কারের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও সরেজমিনে তার সত্যতা মেলেনি।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল ও উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা রাহাত ইসলাম। এরআগে সোমবার বিকালে উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নে বেড়িরহাট থেকে ভেন্নাতলা বাজার পর্যন্ত সড়কের সংস্কার কাজের পরিদর্শনে যান তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের বেড়িরহাট বাজার থেকে ভেন্নাতলা বাজার পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০১ মিটার দৈর্ঘ্য একটি সড়কের সংস্কারের কাজ নেয় মাহমুদ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরপর গত ১৪ জুন বিকেল ৩ টার দিকে সড়করে ভেন্নাতলা বাজারের অংশে কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করেন। যা ১০০ মিটার পর্যন্ত সম্পন্ন হয়। পরেরদিন সকালে স্থানীয়রা হাত দিলেই সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই সড়কটি সংস্কারে বিটুমিনসহ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে তুমুল সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে এমন খবর জানতে পেরে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল, উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা রাহাত ইসলাম সহ সংশ্লিষ্ট এক্সপার্টগণ ওই সড়ক পরিদর্শনে যান। তারা বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারেন সড়কটিতে ইস্টিমেট অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। তারা কোথাও কোন অনিয়ম খুঁজে পাননি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহমুদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মোস্তফা মাহমুদ জানান, 'শিডিউল অনুযায়ী সড়কের নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। মূলত রাস্তার কার্পেটিং করার ৭২ ঘণ্টা সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী হয় না। বিকালে সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ করা হয়েছে। তার পরেরদিন সকালেই ওই সড়ক দিয়ে একটি মোটরসাইকেল চলাচলের সময় ব্রেক করার সময় কার্পেটিং ভাজ হয়ে আসে। এইটা দেখে স্থানীয় কিছু লোকজন মনে করে কাজে অনিয়ম হয়েছে। এরপর ২৪ ঘণ্টা পরেই তারা কার্পেটিং তুলে এধরণের অভিযোগ তুলেছে।'
জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা রাহাত ইসলাম বলেন, 'সড়কের নির্মাণ কাজের অনিয়মের অভিযোগ উঠলে ইউএনও মহোদয়কে সঙ্গে নিয়ে কাজ পরিদর্শন করি। সড়ক সংস্কারের কাজে কোন অনিয়ম খুঁজে পায়নি। শিডিউল অনুযায়ী কাজ হয়েছে। সাধারণত কার্পেটিংয়ের পর ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে স্থায়ী হতে। সেখানে ২৪ ঘন্টা অতিক্রম না করতেই কার্পেটিং পরিপক্ব না হওয়ার কারণে হাত দিলেই সহজে উঠে গেছে।'
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, 'সড়ক সংস্কারের কাজে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে প্রকৌশলী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট এক্সপার্টদের নিয়ে কাজ পরিদর্শন করি। এরপর এক্সপার্টগণ সড়ক সংস্কারের বিষয়ে শিডিউল অনুযায়ী যে ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন তা আমার নিকট সন্তোষজনক মনে হয়েছে। এলাকাবাসী বিষয়টি বুঝতে না পারায় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণ বিষয়গুলো বুঝতে পেরেছেন। এখন তারা সবাই সন্তুষ্ট।'
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.