
এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ আগামী শনিবার ঈদ-উল আযহা। কোরবানি ঈদের আত্মসুদ্ধির জন্য যারা পশু কোরবানি দিবেন, তাদের অধিকাংশই পশু কিনেছেন, যাদের কেনা হয়নি তারা ছুটছেন হাটে ও খামারীদের বাড়িতে বাড়িতে। বাসায় রাখা পশু জবাই ও মাংস-হাড় কাটার অস্ত্র ঘষামাজা করে নেওয়া হচ্ছে। সাধ্য অনুযায়ী যে যার মতো কোরবানির আয়োজনটা অনেকটাই গুছিয়ে নিয়েছেন। শুধুমাত্র শেষ কেনাকাটার তালিকার রয়েছে রকমারি মসলা। কারণ এ ঈদে মসলার কোনো বিকল্প নেই। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রতিটি পরিবারের তালিকায় একটু বেশি পরিমাণ মসলার চাহিদা থাকে।
গৃহিণীদের চাহিদামত পরিবারের অধিকাংশ কর্তারা এখন ব্যস্ত রয়েছে মসলা কেনায়। তালিকা(ফর্দ্দ) ধরে ধরে দোকান থেকে মসলা কিনছে। কোরবানি ঈদে যেহেতু মসলার প্রয়োজনীয়তা বেশী, আর এ সুযোগে বেশ গরম হয়ে উঠেছে মসলার বাজার। রকমারি মসলা বিক্রি হচ্ছে প্রায় দিগুণ দামে। এই ঈদকে সামনে রেখে বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে বিগত বছরগুলোতে দেশের গরম মসলার বাজার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে এবারের চিত্র অনেটাই ভিন্ন। বছরের ব্যবধানে সাদাএলাচ ছাড়া স্থিতিশীল বেশিরভাগ মসলার দাম। আর আদা-রসুন-পেঁয়াজের দাম বছর ঘুরে বেশ কমেছে।
রবিবার (০১ জুন) শেরপুর উপজেলার বেশকিছু বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় সাদাএলাচের দাম বেড়েছে কেজিতে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। গত বছরের এই সময় এই মসলা মানভেদে ২৮শ’ থেকে চার হাজার টাকা কেজি বিক্রি হলেও এবার তা ছয় হাজার টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কালো এলাচ গত বছর এই সময় ২৭শ’ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এবার তা মানভেদে ২৬শ’ থেকে তিন হাজার, জিরা গত বছর ৬শ’ আর বর্তমানে ৬শ’ থেকে মানভেদে ৬২০ টাকা কেজি, লবঙ্গ গত বছর ১৭শ’ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এবার এক হাজার ৩৪০ থেকে দেড় হাজার টাকা, দারুচিনি গত বছরের দাম ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা, গুলমরিচ ১২শ’ থেকে মানভেদে ১৪শ’ টাকা, বজ গত বছর ৯শ’ থেকে এক হাজার টাকা এবছর ৬শ’ থেকে ৮শ’ টাকা, ধনিয়ার গত বছরের দাম ২শ’ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আদার দাম গত বছরের এই সময় ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি এবছর ১শ’ থেকে ১২০ টাকা এবং রসুন গত বছর ১৮০ থেকে ২১০ টাকা আর এবার ১শ’ থেকে দেড়শ’ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, গত বছর ৭০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়াও হলুদের গুঁড়ার কেজি ৩৬০ এবং মরিচের গুঁড়া ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিনে আরও খোঁজ নিতে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গেলে পাইকারি বিক্রেতারা জানান, এ সরকার আসার পর বর্তমানে কোন সিন্ডিকেট না থাকায় সব মসলার দাম বাড়েনি। দুই চারটা মসলা ছাড়া বেশির ভাগ মসলা আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে বগুড়া শহরের মসলার বড় বাজার হিসেবে পরিচিত রাজা বাজার, ফতেহ আলী, কলোনী, চেলোপাড়া, উপশহর বাজার, খান্দার বাজার, শেরপুর উপজেলার বারদুয়ারী হাটখোলা সহ বিভিন্ন উপজেলা সদরের বাজারে মসলার বাজার বেশ চড়া। গত কয়েক দিনের তুলনায় বাজারগুলোতে দাম বেড়েছে সাদা এলালের ও দারচিনির।
শেরপুর পৌর শহরের রেজিস্ট্রি অফিস বাজার এলাকার মসলা ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াহাব বলেন, এক সপ্তাহ আগে প্রতিটি মসলার দাম ২০০-৩০০ টাকা করে কম ছিল। দামের এই ওঠানামার কারণে ব্যবসায়ীরা কেউই অতিরিক্ত মসলা স্টক করছেন না। এ কারণে বাজারদর অনেকটাই অস্থিতিশীল। তবে আমদানি বেড়েছে। বাজার হয়তো নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। অন্য ব্যবসায়ীরা বলেন, কুরবানি ঈদের বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে সাধারণত মসলার দাম বাড়ে। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে এই দাম বৃদ্ধির কারসাজি করেন। তবে সরকার পরিবর্তন হওয়ায় আমদানি যেমন বেড়েছে তেমিন সিন্ডিকেট নেই বললেই চলে, তাই এবছর মসলার দাম অনেকটাই স্থিতিশীল। তারা আরও বলেন, মসলা আমদানি নির্ভর পণ্য হওয়ায় মূলত আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরাই এসব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করেন, যার প্রভাব পড়ে খুচরা পর্যায়ে।
মসলা কিনতে আসা আমিনুল ইসলাম বলেন, শেরপুরে মসলার বাজার বেশ গরম। বাড়তি দামের জন্য মসলা কেনা সম্ভব হচ্ছে না। বাজারে কোনরকম মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার নেই। যে যার অবস্থানে থেকে লুটেপুটে খাচ্ছে। কেউ দেখার নেই! এদিকে মসলার গুনগত বজায় রাখা নিয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজার স্থিতিশীল রয়েছে, আমদানি জনিতকারণে এলাচির দাম কিছুটা বাড়তি রয়েছে, তবে ক্রয় ক্ষমতার বাইরে নয়।

আরও পড়ুন
‘বাড়ি জামালপুরে’—এটুকুই মনে আছে; পরিচয়হীন অসহায় নারী খুঁজছেন স্বজনদের
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার