
মো:রাফাত হোসেন,কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: বাজারে চাহিদা ও মানসম্মত উৎপাদন সত্ত্বেও বিদেশে রপ্তানি করতে পারছে না ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের আম। ব্যাগ ও গ্যাপ (GAP) পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে আন্তর্জাতিক মানের বিষমুক্ত ও পোকামুক্ত আম উৎপাদন করছেন এখানকার চাষিরা। কিন্তু শুধুমাত্র “রপ্তানি যোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প”-এর আওতাভুক্ত না হওয়ায় এই সম্ভাবনাময় ফল বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে না। এই বিষয়ে ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ষষ্ঠী চন্দ্র রায় বলেন, “আমি বাজারে ঘুরে দেখেছি, কোটচাঁদপুরের আম খুবই মানসম্মত। তবে রপ্তানির জন্য কিছু প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রকল্পভুক্ত হওয়াও জরুরি।”
তিনি আরও জানান, এ বছর ওই প্রকল্পের আওতায় অন্য অঞ্চল থেকে ৫ টন আম চীনে রপ্তানি হয়েছে, কিন্তু কোটচাঁদপুর সে সুযোগ পায়নি। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আম উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত কোটচাঁদপুর। এখানে উৎপাদিত আমের মধ্যে হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, বানানা, কাটিমন, হাড়িভাঙ্গা, বারি আম-৩ ও বারি আম-৪ উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে হিমসাগর, আম্রপালি, বানানা ও কাটিমন জাতের আম ব্যাগ ও গ্যাপ পদ্ধতিতে চাষ করে রপ্তানি উপযোগী করা হচ্ছে। চাষি আবুল হোসেন জানান, “আমি এ বছর ১০ বিঘা জমিতে হিমসাগর ও আম্রপালি চাষ করেছি। এর মধ্যে ২ টন হিমসাগর এবং ১০ টন আম্রপালি আম রপ্তানি উপযোগীভাবে প্রস্তুত করেছি।
ব্যাগ ব্যবহারে খরচ বাড়লেও আমের মান এবং বাজারদর অনেক ভালো। প্রতি ব্যাগে ব্যয় ১ টাকা হলেও দাম পাওয়া যায় অতিরিক্ত ৫০ থেকে ৮০ টাকা।” প্রথমবারের মতো চার বছর আগে আব্দুল আজিজ ব্যাগ পদ্ধতিতে আম চাষ শুরু করলে পরবর্তীতে অন্যান্য চাষিরাও উৎসাহিত হয়ে একই পথে হাঁটেন। বর্তমানে কোটচাঁদপুরের সলেমানপুর গ্রামের আবুল হোসেন, আব্দুল আজিজ, খোকা সর্দার, রশিদ সর্দার ও জামাল সর্দারসহ অনেকেই ৫০ হাজার ব্যাগে আম চাষ করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, “এ বছর আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩,৩০০ হেক্টর, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। বায়ারদের সঙ্গে কথা হচ্ছে, তারা আম্রপালি আম রপ্তানিতে আগ্রহ দেখিয়েছেন।” তবে প্রকল্পভুক্ত না হওয়ায় এখনো রপ্তানির পথে বড় বাধা রয়ে গেছে। স্থানীয় কৃষকরা মনে করছেন, সরকারিভাবে প্রকল্পের আওতায় আনা হলে একদিকে যেমন চাষিরা লাভবান হবেন, অন্যদিকে দেশও পাবে বৈদেশিক মুদ্রা।