প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৩:১৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ১৮, ২০২৫, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ

মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানঃ ১৭ মে, শনিবার বিকাল তিনটায় ধানমন্ডির ওমেন'স ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ নারী অধিকার আন্দোলনের উদ্যোগে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের উপর এক পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণমূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন নারী অধিকার আন্দোলনের সভাপতি ও পরিকল্পনা কমিশনের অবসরপ্রাপ্ত ডিভিশন চীফ মিসেস মমতাজ মান্নান এবং সঞ্চালনা করেন নারী অধিকার আন্দোলনের সেক্রেটারী ও বাদশাহ ফয়সাল ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক নাজমুন নাহার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নারী অধিকার আন্দোলনের জয়েন্ট সেক্রেটারী প্রফেসর ডঃ শারমীন ইসলাম।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, নারী কমিশনের বিতর্কিত ও ইসলাম বিরোধী সুপারিশমালা বাস্তবায়ন করলে সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে।তাই,
সভায় নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের উপর বিশদ পর্যালোচনা শেষে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সংশোধনের লক্ষ্যে নিম্নলিখিত ১৩টি লিখিত প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
০১) বিদ্যমান কমিশন বিলুপ্ত করে সকল অংশীজনের সমন্বয়ে একটি অন্তর্ভূক্তিমূলক(Inclusive) কমিশন গঠন করতে হবে।
০২) ধর্মকে দায়ী করে নারী ও পুরুষের বৈষম্যের কারণে হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।ধর্ম বিদ্বেষী মনোভাব পরিহার করে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
০৩) পতিতাবৃত্তি সব ধর্মেই নিষিদ্ধ।ইসলামে এটি হারাম।আর নারীর জন্য চরম অবমাননাকর। একে শ্রম আইনে স্বীকৃতি দেয়া যাবে না।এই সুপারিশ বাতিল করতে হবে।
০৪) কমিশন সর্বক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমতা বিধানের সুপারিশ করেছে।এটি বাতিল করে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ যে নীতি -সমতা ও ন্যায্যতা ক্ষেত্রবিশেষে তা বহাল রাখতে হবে।
০৫) জাতিসংঘে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদের দুটি ধারা (ধারা ২ ও ১৬.১-গ) কমিশন প্রত্যাহার করার যে সুপারিশ করেছে তা বাতিল করে ধারা দুটি বহাল রাখতে হবে।
০৬) সম্পদ বন্টনে ইসলামের উত্তরাধিকার আইন বলবৎ থাকতে হবে।
০৭) কমিশনের অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রবর্তনের সুপারিশ বাতিল করতে হবে।
০৮) কমিশন সকল ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার চায় কিন্তু তালাকের ক্ষেত্রে একপক্ষীয় ভরণপোষণ চায়।এটি স্ববিরোধী, তাই বাতিল করতে হবে।
০৯) কমিশন বহু বিবাহ বিলোপ করার প্রস্তাব করেছে। ইসলাম শর্তসাপেক্ষে ইহার অনুমোদন দিয়েছে। কমিশনের এই প্রস্তাব বাতিল করতে হবে।
১০) কমিশন তালাকের সময় স্ত্রীর মোহরানা আদায়ের সুপারিশ করেছে।এটি ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতারই পরিচায়ক।ইসলামে স্বামী-স্ত্রী মিলনের পূর্বেই মোহরানা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।এই সুপারিশ অপ্রয়োজনীয় তাই বাতিলযোগ্য।
১১) পিতার নাম গোপন করে সন্তানের জন্ম-নিবন্ধন, পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট করার সুযোগ রাখতে চায় এই কমিশন।এটি পরিবার ও সমাজ কাঠামো ভেঙে ফেলারই ষড়যন্ত্র।তাই,এই সুপারিশ বাতিল করতে হবে।
১২) নারী সংস্কার কমিশন সংবিধানের বিভিন্ন ধারাতে (২৬,২৭,২৮-৩,২৯,৩২,৪২) যেখানে নারী-পুরুষ লিখা আছে,সেসব জায়গাতেই সংশোধনের প্রস্তাব করেছে। নারী-পুরুষ শব্দ যুগলের পরিবর্তে অসংজ্ঞায়িত লিঙ্গ শব্দের ব্যবহার চাচ্ছে যার বাস্তবায়ন ধর্মীয় অনুশাসনের বিরুদ্ধবাদীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার শামিল হবে।তাই,এটি বাতিল করতে হবে।
১৩) কমিশন দত্তক শিশুকে গর্ভজাত শিশুর ন্যায় বিধান চেয়ে পূর্ণ উত্তরাধিকারের সুপারিশ করেছে।এটি সরাসরি আল কুরআনের সূরা আহযাবের ৪নং আয়াতের পরিপন্থী বিধায় এটি বাতিল করতে হবে।
সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন নারী অধিকার আন্দোলনের উপদেষ্টা প্রফেসর ডাঃ হাবিবা চৌধুরী, নারী অধিকার আন্দোলনের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডাঃ নাঈমা মোয়াজ্জেম, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির লেকচারার ইঞ্জিনিয়ার আরদিয়া মমতাজ প্রমূখ।
সেমিনারে বক্তারা এদেশের বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীর সভ্যতা ও কৃষ্টি,আকিদা ও বিশ্বাস, নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী সুপারিশসমূহ বাতিলের জোর দাবি জানান। তাঁরা বলেন, প্রতিবেদনে অনেক ভালো ও যৌক্তিক সুপারিশমালার সমাহার থাকলেও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জীবনবোধের বিপরীতে ইসলাম বিদ্বেষী যে দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটেছে তা সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অধিকাংশ বক্তাই এই নারী কমিশন বিলুপ্ত করে নতুন কমিশন গঠনপূর্বক প্রতিবেদনের প্রয়োজনীয় ও গ্রহণযোগ্য পরিবর্তন,পরিবর্ধন ও সংশোধনীর দাবি জানান।