
মো:রাফাত হোসেন,কালীগঞ্জ ,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগে ঘুষ ও তদবিরমুক্ত এক স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেধাবী প্রার্থীদের নির্বাচন করা হয়েছে। মাত্র ১২০ টাকার আবেদন ফি দিয়ে চাকরি পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে স্বস্তি, আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা।
এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের মাঝে পুলিশের প্রতি আস্থা ফেরানোর পাশাপাশি দেশের নিয়োগব্যবস্থার ইতিবাচক দিকটি তুলে ধরেছে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৪ এপ্রিল কনস্টেবল পদে নিয়োগের যাচাই- বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মোট ১,৭৪১ জন প্রার্থী আবেদন করেন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ৪ মে অনুষ্ঠিত হয় লিখিত পরীক্ষা, যেখানে অংশ নেন ২৬৯ জন।
এদের মধ্যে ৬৯ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন এবং ১৪ মে দিনব্যাপী মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন রাতে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে জেলা পুলিশ প্রশাসন। চূড়ান্ত ফলাফলে প্রথম স্থান অধিকার করেন ঝিনাইদহ শহরের গুলশানপাড়ার আকাশ দাস। তিনি বলেন, আমার কোনো সুপারিশ ছিল না। ভেবেছিলাম চাকরিটা হবে না। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে আমি বিস্মিত ও কৃতজ্ঞ। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পুলিশ প্রশাসন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শুধু আকাশ নয়, কোটচাঁদপুর উপজেলার জয়দিয়া গ্রামের শিমলা হালদারও চাকরি পেয়েছেন ঘুষ বা তদবির ছাড়া। তার বাবা অশোক হালদার বলেন, “আমার মেয়ে সৎ পথে পুলিশে চাকরি পেয়েছে, এটাই আমাদের জন্য গর্বের।
এভাবে সৎ মানুষের হাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব।” এ প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপার মো. মনজুর মোর্শেদ বলেন, আমরা সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে মেধা ও যোগ্যদের মূল্যায়ন করেছি। যোগ্যরাই তিন ধাপের পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাক্ষর রেখেছেন। ঘুষ-তদবির ছাড়া চাকরি হয় না এই ধারণা ভাঙতে চাই আমরা। এরকম নিয়োগ প্রক্রিয়া দেশ গড়ার পথে একটি শক্ত পদক্ষেপ।
তিনি আরও বলেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের উদ্দেশে বলছি, আপনাদের এখন দায়িত্ব দেশ ও জনগণের জন্য নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করা। এ স্বচ্ছতার ধারা অব্যাহত থাকবে।