
বুধবার (১৪ মে) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিহত শাহরিয়ার আলম সাম্য উল্লাপাড়ার মোমেনা আলী বিজ্ঞান স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়। সেখান থেকে এসএসসি পাশ করেন তিনি। খুব মেধাবী ছাত্র ছিলেন তিনি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার মা কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। পরিবারের সবাই ঢাকায় বসবাস করেন।
নিহত সাম্যের চাচা কাউসার আলম বলেন, চার সন্তান নিয়ে তার ভাই ঢাকাতেই বসবাস করেন। সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বাকি তিন ভাতিজা বিভিন্ন কর্মে নিয়োজিত রয়েছেন। সাম্যদের পরিবারের সবাই ঈদ ও বিশেষ কোনো আয়োজনে গ্রামে আসতো। গত মঙ্গলবার (১৩ মে) রাত ১টার দিকে জানতে পারি সাম্যকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খুন করা হয়েছে। জানি না কোন অপরাধে আমার ভাতিজাকে খুন করা হলো। এই মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আত্মীয় স্বজন অনেকেই ঢাকায় চলে গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত হওয়ার পর ঢাকায় জানাজা হবে। এরপর গ্রামের বাড়িতে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন কার্য্য সম্পন্ন করা হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, শাহরিয়ার আলম সাম্য ছিলেন অত্যান্ত মেধাবী ছাত্র। তিনি উল্লাপাড়া মোমোনা আলী বিজ্ঞান স্কুলে পড়ালেখা করতেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়। ওখানে ভর্তি হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত ছিল।
নজরুল ইসলাম আরও বলেন, সড়াতৈল জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে শাহরিয়ার আলমের জন্য কবর খোড়া হচ্ছে। মরদেহ আসলে জানাজা শেষে শেখানে দাফন কার্য্য শেষ করা হবে। এদিকে, শাহারিয়ার আলম সাম্য হত্যার প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিলে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারসহ ফাঁসির দাবী জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
পরিবারের বরাদ দিয়ে বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকেরিয়া হোসেন বলেন, প্রথমে ঢাকায় জানাজা শেষে নিজ গ্রামের বাড়িতে আনা হচ্ছে। বাদ আছর নামাজের পরে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হবে। মরদেহ আসলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হবে।
প্রসঙ্গ, মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মুক্তমঞ্চের পাশ দিয়ে মোটরসাইকেল যাওয়ার সময় আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং ধস্তাধস্তি হয়। এজেড় ধরে সাম্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে রাত ১২টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় সাম্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করেন।