
আরিফ সরকার ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। তিনি বর্তমানে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা বাজারের পাশে তার শুশুর মো. রফিক মুহুরী বাড়ীর পাশে প্রদীপ কুমার মাস্টারের বাড়ির সামনে কয়েক কোটি টাকার দিয়ে তৈরী করা ৫ তলা আলিশান বাড়িতে থাকেন। বাড়িটির জমিসহ আনুমানিক মুল্য কয়েক কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (৬ মে) সকালে রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা বাজারের সরজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপসহকারী প্রকৌশলী আরিফ সরকার দীর্ঘদিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত ছিলো। বিভিন্ন জেলায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ঠিকাদারদের জিম্মি করে তিনি এককভাবে অনিয়ম দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে।
তিনি বছরের পর বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন জেলায় চাকুরী করার কারণে পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ। সেই থেকে খোলেন তার দুর্নীতি আর অর্থ আত্মসাতের খাতা। এতে করে কোটি কোটি টাকা লুট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই অনিয়ম দুর্নীতির টাকা দিয়ে শেরপুর এ্যাপেক্স এর শো-রুম তৈরী, চান্দাইকোনায় জমিসহ বাড়ি, ধনকুন্ডু গ্রামের কৃষি জমিসহ ঢাকায় নিজস্ব ফ্লাট রয়েছে বলেও জানা গেছে।
১৫ বছরে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতা থাকায় শীর্ষ নেতাদের সাথে সক্ষতা রেখে আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী ঠিকাদারদের নিকট থেকে নানা সুযোগ সুবিধা নিয়ে অবৈধ জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদের অর্থ দিয়েই সম্প্রতি সময়ে কোটি টাকা খরচ করে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুরু করেছেন। আরিফ সরকার যে সম্পদ অর্জন করেছেন তার সাথে তার আয়ের কোন মিল নেই। বরং একের পর নিজের প্রভাব দেখিয়ে ঠিকাদারদের নিকট থেকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে গড়েছেন সম্পদ আর সম্পদ। হঠাৎ করে আলাদ্দীনের চেরাগের মতো তিনি কীভাবে এতো সম্পদের মালিক হলেন তা নিয়ে সিরাজগঞ্জের মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারী শফিকুল ইসলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বেতন গ্রেড ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা। তিনি কিভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হন। তার বেতন মাসে ৫ লাখ টাকা হলেও কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া সম্ভব না, যদি সে দুর্নীতি না করেন। তাই তার এই সম্পদের আয়ের উৎস খুজে বের করতে হবে। আর তিনি বিগত দিনে কোন কোন জেলায় কর্মরত ছিলো সেখানে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করলেই মুল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আরিফ সরকারের সম্পদ অর্জনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি চাকুরী করে এই সকল সম্পত্তি অর্জন করেছি। আপনারা যা পারেন লেখেন, পড়ে দেখে নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন নির্বাহী প্রকৌশলী (অঃদাঃ) রঞ্জন কুমার দাস সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আরিফ সরকার কর্তৃক সম্পদ অর্জনের বিষয়টি তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে তিনি অবৈধভাবে জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জন করে থাকলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। আমি তার ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারি না।

আরও পড়ুন
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল