প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ১১:০৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২৯, ২০২৫, ৬:০২ অপরাহ্ণ
৭৫ বছর বয়সে ডিগ্রি পাশ নাটোরের সাদেক আলীর

মোস্তাফিজুর রহমান,নাটোর জেলা প্রতিনিধিঃ নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ৩নং খাজুরা ইউনিয়নের খাজুরা গ্রামের মৃত: মোঃ কাশেম আলী প্রাং এর ছেলে, সাদেক আলী প্রাং ৭৫ বছর বয়সে যিনি বিএ এবং বিএসএস পরীক্ষা ২০২২ এ ২.৭৫ সিজিপিএ পেয়ে পাস করে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তাঁর অদম্য ইচ্ছা আর অক্লান্ত পরিশ্রম এ সাফল্য এনে দিয়েছে। তিনি ১৯৭৪ সালে এসএসসি এবং এইচএসসি পাস করেন ১৯৭৬ সালে। আর্থিক অনটন এবং বিভিন্ন সমস্যার কারণে আর লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেন নি। কিন্তু উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন হতে তিনি দূরে সরে যান নি। তিনি তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ২০২০ সালে বাউবি'র দিঘাপতিয়া এম. কে. কলেজ, নাটোর সদর, নাটোরে ভর্তি হন। ২০২২ সালে চুড়ান্ত পরীক্ষায় অবতীর্ন হয়ে সফল হন। তার এক ছেলে এবং দুই জন মেয়ের গর্বিত পিতা। তিনি পেশায় একজন কৃষক। তাঁর ছোট ছেলে মোঃ নাসির উদ্দিন, সহকারী অধ্যাপক ইংরেজি এবং বাউবি'র টিউটর। মেয়ে দুইজন কামেল পাশ এবং গৃহিণী।
নাটোর বাউবি'র দিঘাপতিয়া এম. কে. কলেজের শিক্ষক ও তার ছেলে নাসির উদ্দিন বলেন, ১ জানুয়ারী ২০২৪ তারিখে এক মোটরসাইকেল দূর্টনায় তার বাম পায়ের দুই হাড় ভেঙে যায়। প্রায় ২ মাস পঙ্গু হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিয়ে ৩য়, ৪র্থ, ৫ম এবং ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ক্রেচ/লাঠি হাতে নিয়ে। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস এবং কঠিন মনোবলের জন্যই তিনি এই অসম্ভব কে সম্ভব করেছেন। তিনি আরো বলেন এখনো তিনি পুরোপুরি সুস্থ হননি।
বাউবি এর বরিশাল আঞ্চলিক পরিচালক, ড. মোঃ আজিজুল হক বলেন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়( বাউবি) একটি অসাধারণ নাম। কত মানুষের স্বপ্নের ঠিকানা, গণমানুষের আশা আকাংখার প্রতীক! দেশ ও মানুষ গড়ার নিভৃত কারিগর! যার প্রমাণ হিসেবে দেখিয়ে দিয়েছেন সাদেক আলী তাঁর মতো অসংখ্য শিক্ষার্থীর শেষ ঠিকানা বাউবি। বাউবি সকল পেশাজীবি এবং যে কোনো বয়সী মানুষকে শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছে। অনেকে তাঁর পথ খুঁজে পেয়েছেন, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.