প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৩:২৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২৬, ২০২৫, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
কৃষিজমিতে সেচ সংকট: ট্রান্সফরমার-মিটার চুরির ভয়াবহ থাবায় কৃষক জর্জরিত, প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ

তারিকুল ইসলাম,কালাই(জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: জয়পুরহাট জেলায় ইরি-বোরো মৌসুমে যখন কৃষকের জমিতে সোনালী ধান হাসার কথা,ঠিক তখনই কৃষকদের মাথায় নেমে এসেছে চুরির অভিশাপ। জেলার মাঠে মাঠে চলছে এক অঘোষিত দুঃস্বপ্ন,গভীর ও অগভীর নলকূপ থেকে ট্রান্সফরমার ও বৈদ্যুতিক মিটার চুরির মহোৎসব। কৃষকের কষ্টার্জিত টাকায় কেনা সেচ যন্ত্রপাতি আজ চোরচক্রের কবলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদাসীনতা ও পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির সীমিত সক্ষমতার মাঝে চাষাবাদ এখন রীতিমত ঝুঁকিপূর্ণ ও আর্থিকভাবে ক্ষতিসাধনকারীর এক কর্মযজ্ঞে পরিণত হয়েছে।গত কয়েক মাস ধরে লাগাতারভাবে ঘটছে চুরি আর এতে সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক জমিতে।
পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ১৬১টি ট্রান্সফরমার এবং ৭১টি মিটার চুরি হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি কালাই উপজেলায় এখানে ৭৬টি ট্রান্সফরমার ও ১৫টি মিটার চুরি হয়েছে।
চুরি ঠেকাতে অনেক মালিক বৈদ্যুতিক খুঁটির গায়ে ইলেকট্রিক ডিভাইস,মিটার লোহার খাঁচায় বন্দি, এমনকি হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার করেও রক্ষা পাচ্ছেন না। কিছু ক্ষেত্রে চোরেরা পাহারাদারকে বেঁধে ফেলে নির্দ্বিধায় ট্রান্সফরমার খুলে নিয়ে যাচ্ছে। চোরদের ধৃষ্টতা এতটাই বেড়ে গেছে যে, চুরির পর ফেলে যাচ্ছে চিরকুট যেখানে বিকাশ নম্বর লিখে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, টাকা না দিলে ফের চুরি হবে।
কালাইয়ের শাহিন আলম, আতাউর রহমান, হেলালউদ্দীন প্রামাণিকসহ বহু সেচ মালিক জানাচ্ছেন, একাধিকবার ট্রান্সফরমার ও মিটার চুরি হওয়ার পর থানায় অভিযোগ করা হলেও অধিকাংশ সময় তা মামলা হিসেবে গ্রহণই করা হয়নি।অনেকে বলেন, পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে রহস্যজনক গা-ছাড়া ভাব রয়েছে। এমনকি চোরদের বিকাশ নম্বর সরাসরি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
চোরদের চাঁদার জন্য পাঠানো বার্তায় ২০-২৫ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে।কেউ কেউ বাধ্য হয়ে টাকা দিচ্ছেন কিন্তু ফেরত পাওয়া মিটারও পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি গ্রহণ করছে না। বরং আবার নতুন মিটার কেনার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে,ফলে দ্বিগুণ ক্ষতির শিকার হচ্ছেন কৃষকরা।
জেলায় প্রায় ৭ হাজার ট্রান্সফরমার দিয়ে সেচ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চোরদের দাপটে এখন অনেক কৃষক সেচ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। ফসলের মৌসুমে এমন পরিস্থিতি কৃষির জন্য এক ভয়ংকর বিপদ সংকেত। ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন,যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়,তাহলে উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে।
জয়পুরহাট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আবু উমাম মো.মাহবুবুল হক জানান, জেলার ৬ হাজার ৯৫২টি ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এত সংখ্যক স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি বলেন,চুরির পর আমরা পুলিশকে জানিয়েছি,কিন্তু সব মহলের সহযোগিতা ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।
জেলা প্রশাসক এবং সেচ কমিটির সভাপতি আফরোজা আকতার চৌধুরী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করছে। খুব শীঘ্রই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.