প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৯:৪১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২৪, ২০২৫, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
কক্সবাজার-মহেশখালী নৌপথে আনুষ্ঠানিকভাবে সী-ট্রাক সার্ভিস এর উদ্ভোদন

মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী কক্সবাজার: কক্সবাজার-মহেশখালী নৌপথে আনুষ্ঠানিকভাবে সী–ট্রাক সার্ভিস চালু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টার দিকে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে সী–ট্রাক সার্ভিসের উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। এরপর সী–ট্রাকে করে নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে নৌপরিবহন উপদেষ্টা প্রায় আট কিলোমিটার সাগর পাড়ি দিয়ে মহেশখালী যান। ৪৫ মিনিট পর সী–ট্রাক সার্ভিসটি মহেশখালী জেটিতে পৌঁছায়। এ সময় নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে সী–ট্রাকে ছিলেন মহেশখালীর কৃতি সন্তান লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান।
সী–ট্রাক মহেশখালী পৌঁছানোর পর বিআইডব্লিউটিএ জেটিতে ইউএনও হেদায়েত উল্যাহর পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নৌ পরিবহণ উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন। এ ছাড়া অতিথি ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর আরিফ আহমেদ মোস্তফা, বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান মো. সলিমুল্লাহ, বিআইডব্লিউটিএ সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালনা) মো. জিয়াউল ইসলাম, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, পুলিশ সুপার মো. সাইফ উদ্দিন শাহীন, বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (বন্দর) এ কে এম আরিফ উদ্দিন, বিআইডব্লিউটিএ প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) রকিবুল ইসলাম তালুকদার ও বিআইডব্লিউটিএ কক্সবাজার (কস্তুরাঘাট) নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক মো. খায়রুজ্জামান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে রাজনৈতিক মাফিয়া চক্রের হাতে দ্বীপের বাসিন্দারা জিম্মি ছিলেন। ওই মাফিয়া চক্রের কারণে এই সেবা এতো দিন চালু হয়নি। এখন থেকে দ্বীপের বাসিন্দারা নিরাপদে সী–ট্রাকে করে যাতায়াত করতে পারবেন। রাতেও যাতে দ্বীপের বাসিন্দারা সী–ট্রাকে করে যাতায়াত করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, দ্বীপের বাসিন্দারা যাতে কক্সবাজার ৬ নম্বর জেটিঘাট দিয়ে যাতায়াত করতে পারেন, তার জন্য ড্রেজিং করার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মামলার কারণে ড্রেজিং কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত ৬ নম্বর ঘাট ড্রেজিং করা হবে, যাতে দ্বীপের বাসিন্দারা সরাসরি কক্সবাজার ৬ নম্বর ঘাট দিয়ে যাতায়াত করতে পারেন।
ভাড়া কমানোর বিষয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, প্রথমে সি–ট্রাকের ন্যূনতম ভাড়া ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু দ্বীপের বাসিন্দাদের সুবিধার্থে সর্বনিম্ন ভাড়া নুনিয়ারছড়া থেকে মহেশখালী ৩০ টাকা ও কক্সবাজার ৬ নম্বর ঘাট থেকে মহেশখালী পর্যন্ত ভাড়া ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বীপের মানুষ কম খরচে এই নৌরুটে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবেন। এখন আপাতত একটি সী–ট্রাক যাতায়াত করবে। সামনে এই নৌরুটে আরও একটি সী–ট্রাক দেওয়া হবে।
এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, মহেশখালীতে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে মহেশখালীর নাম উঠে আসছে। কিন্তু গত ২৩ বছর কক্সবাজার ও মহেশখালী জেটিঘাটের কোনো উন্নয়ন হয়নি। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তন হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার মহেশখালীর জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সূত্রপাত হয়েছে। কিন্তু সব সমস্যার সমাধান হয়নি। এখন নিরাপদে সী–ট্রাকে করে দ্বীপের বাসিন্দারা যাতায়াত করতে পারবেন। এই নৌপথে স্পিডবোটে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ। মানুষ ঝুঁকি নিয়েই এত দিন যাতায়াত করেছেন।
বিআইডব্লিউটিএ জানায়, কক্সবাজার থেকে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা, দুপুর ১২টা এবং সন্ধ্যা ৬টায় মহেশখালীর উদ্দেশে সী-ট্রাক ছেড়ে যাবে। মহেশখালী থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছাড়বে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টা, বেলা ১১টা এবং বিকেল ৫টায়।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.