
তারিকুল ইসলাম,কালাই(জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট হাটে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইজারার শর্ত ভেঙে পুরো টাকা পরিশোধ না করেই যুবদল নেতা এফতাদুল হক হাট দখলে নিয়ে জোরপূর্বক হাসিল আদায় শুরু করেছেন। প্রশাসনের নিরবতায় সাধারণ দরদাতা এবং হাট সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
২০২৫ সালের বাংলা ১৪৩২ সনের জন্য হাট ইজারার দরপত্র আহ্বান করে কালাই উপজেলা প্রশাসন। সর্বোচ্চ ৭৬ লাখ ৬৬ হাজার ৫০০ টাকা দর দিয়ে ইজারা লাভ করেন জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এফতাদুল হক। শর্ত অনুযায়ী, দরপত্র গ্রহণের পর ৭ কর্মদিবসের মধ্যে ইজারামূল্যের ৭৫% টাকা ১৫% ভ্যাট এবং ১০% আয়কর ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল।অন্যথায় জামানত বাজেয়াপ্ত করে নতুন করে ইজারা আহ্বান করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল।
কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই হয়নি।গত ২০ ফেব্রুয়ারি টাকা পরিশোধের চিঠি ইস্যু করা হলেও এফতাদুল প্রায় দুই মাস পরে, ১৭ এপ্রিল টাকা জমা দেন। অথচ চিঠি পাওয়ার ৭ কর্মদিবসের মধ্যে টাকা জমা না দিলে ইজারা বাতিল এবং জামানত বাজেয়াপ্ত করার নিয়ম ছিল। নিয়ম ভেঙে, টাকা জমা না দিয়েই এফতাদুল ১৪ এপ্রিল থেকে হাট দখলে নিয়ে তাঁর লোকজন দিয়ে প্রকাশ্যে হাসিল আদায় শুরু করেন।
ঘটনার আরও ভয়াবহ দিক হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিয়ে হাট দখলের পরও কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বরং কার্যাদেশ ইস্যু করে এই অনিয়মকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে!
হাটের আগের তালিকা অনুসারে হাসিল আদায় করতে দেখা যায় এফতাদুলের নিয়োজিত লোকজনকে। তাদের দাবি, ইউএনও গত ১৪ এপ্রিল হাট বুঝিয়ে দিয়েছেন। অথচ টাকার পুরোটাই জমা হয়েছে ১৭ এপ্রিল! এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন,কীভাবে টাকা ছাড়া হাট বুঝিয়ে দেওয়া হয় এটা কি সরকারি নিয়মের মধ্যে পড়ে?”
পুনট ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছুর রহমানসহ অনেকে অভিযোগ করেন, এফতাদুলের লোকজন জোর করে হাট চালাচ্ছে, অথচ নিয়ম মেনে টাকা দেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। প্রশাসন নীরব থেকে এই অনিয়মে সহযোগিতা করেছেন।”
এ ঘটনায় তৃতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা আহসান হাবিব পলাশ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে গিয়ে এফতাদুলের দেওয়া মূল দরেই হাট নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাননি তিনি। বাধ্য হয়ে পলাশ ১৭ এপ্রিল বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ ও পুনরায় দরপত্র আহ্বানের আবেদন করেন। আহসান হাবিব পলাশ বলেন, আমি শেষ পর্যন্ত লড়বো। প্রয়োজনে আদালতে যাবো। এভাবে অবৈধভাবে টাকা ছাড়াই হাট দখলের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।”
এ বিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামিমা আক্তার জাহান বলেন,চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি চিঠি দিয়েছিলাম। পরে এফতাদুল গত ১৭ এপ্রিল সমুদয় টাকা জমা দিয়েছেন তাই কার্যাদেশ দিয়েছি। তবে কেন নির্ধারিত সময়ের বাইরে টাকা জমা নেওয়া হলো, কেন জামানত বাজেয়াপ্ত করা হলো না,এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান তিনি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা নেওয়া হত।”
অন্যদিকে এফতাদুল হক দাবি করেছেন, “আমি চিঠি পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যেই টাকা জমা দিয়েছি। তবে কত তারিখে চিঠি পেয়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি তিনি।

আরও পড়ুন
‘বাড়ি জামালপুরে’—এটুকুই মনে আছে; পরিচয়হীন অসহায় নারী খুঁজছেন স্বজনদের
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার