প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ৯:৪১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১৯, ২০২৫, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ি দিবসে সহিদদের প্রতি শ্রদ্ধানজলী

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: নানা কর্ম সুচিতে যথাযথ মর্যাদায় বড়াইবাড়ী দিবস পালিত হয়েছে । কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী সীমাÍ সংঘর্ষও বর্ষপূর্তি আজ ২৫ বছর। গতকাল (১৮ এপ্রিল) শুক্রবার এলাকা বাসির উদ্দােগে বেলা১১ টায় বড়াইবাড়ী সীমাÍ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, র্যালি, দোয়া ও আলাচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এত সভাপতিত্ব করেন সাবেক এমপি রুহুল আমিন। এসময় বক্তব্য রাখেন, বিগ্রডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান বীর প্রতিক (অব:) কর্ণেল মাো; জয়নাল আবেদীন (অব:), কর্ণেল মাো: জাকারিয়া হাসন (অব:), ল: লেখক সাংবাদিক আবু রুশীদ (অব:), মেজর মাো: জামাল হায়দার (অব:), মেজর মো:.আব্দুর রব (অব:), বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো.তসলিম উদ্দিন, জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ্ব মাো: আজিজুর রহমান, রাজিবপুর উপজেলা বিএনপি আহবায়ক মো. মোখলেছুর রহমান, প্রধান শিক্ষক মো :আহসানুল হক (সাদা), মো: রেজাউল ইসলাম রিজু, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, সেনাবাহিনী ও বিডিআর এর ৪০ জন উচ পদস্ত কর্মকর্তাগণ, সামাজিক সংগঠন, সাংবাদিকবদ ও অত্র এলাকার সহস্রাধিক মানুষ উপস্তি ছিলেন।
প্রধান অতিথি কর্ণেল মাো :জয়নাল আবদীন (অব:) বলেন, দেশপ্রমিক বিজিবির ৮ জন সদস্য এলাকাবাসির ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সেদিন ভারতীয় সীমাÍরক্ষী বাহিনীকে পরাজয়বরণ করতে বাধ্য করেছিল। সেই সাহসিক ভুমিকা ও ঐক্যবদ্ধতা ধরে রেখে সীমাÍ নজর রাখতে হবে। যাতে কেউ অন্যায় ভাবে চোখ তুলে তাকাতে না পারে ।
ল: লেখক সাংবাদিক আবু রুশীদ (অব:) বলেন, ষোল বছর একটা সরকার ছিল তখন সেনাবাহিনীদ ও মূল্যায়ন করতো না এবং আমার অফিসারদের কোন দিবস তেমন ভাবে পালন করতে দিতো না। তারা ভারত কর্তৃক নতাজানু ছিলা। বিভিন গোয়দা সংস্াদিয় আমাদের ও চাপ দিতো তাই এই বড়াইবাড়ি দিবসটিতে আসতে পারি নাই। এখন সেই পরিবেশ নেই তাই আমরা অংশ গ্রহন করছি ভবিষতে এই দিবসটি কে আমরা জাকজমক ভাবে পালন করবে।
এসময় বক্তারা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তারা বলেন বড়াইবাড়ি দিবসকে জাতীয় ভাবে স্বীকতি আহত ও নিহত পরিবারদের বীরের মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানান।
প্রঙ্গগত ২০০১ সাল ১৮ এপ্রিল ভারতীয় সীমাÍ রক্ষী বাহিনী বিএসএফ বড়াইবাড়ী গ্রামে প্রবেশ করে নরকীয় তান্ডব চালায়। এতে অকুতাভয় নিয়ে বাংলাদেশ বিডিআর ও গ্রামবাসীরা একত্র মিলিত হয়ে বিএসএফদের প্রতিরোধ এক পর্যায়ে ব্যর্থ হয় ভারতীয় সীমাÍরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। এতে নিহত হয় বাংলাদেশের তিন বীর বিডিআর জোয়ান। এ সময় ভারতীয় পক্ষে নিহত হয় ১৬ জন বিএসএফ সদস্য। সেই থেকে ঐতিহাসিক এই দিনটিকে পালন করা হয় ‘বড়াইবাড়ী দিবস’। এই দিবসটি সরকারি ভাবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় তীব্র এলাকাবাসির মধ্য ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বক্তারা দ্রুত দিবসটিকে জাতীয় স্বীকৃতি দেওয়ার আশ্বাস দেন।
২০০১ সালর ১৮ এপ্রিল ভোররাতে ভারতর সীমাÍ রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদশী সীমাÍ অনধিকার প্রবেশ করে বড়াইবাড়ী গ্রামের ঘুমন্ত মানুষের উপর হামলা চালায় ও বাড়ি-ঘর নির্বিচার জ্বালিয়ে দেয়। ওই দিন দঁাতভাঙ্গা জবাব দিয়েছিল বিডিআর-জনতা। আর সই প্রতিরোধ বিএসএফ এর ১৬ জনের লাশ ফেলে পালিয়ে যায় ভারতীয় সীমাÍ রক্ষীনবাহীনী। শহীদ হয়েছিল ৩৩ রাইফেলস্ ব্যাটালিয়নের ল্যান্স নায়ক ওয়াহিদুজ্জামান, সিপাহী মাহফুজার রহমান এবং ২৬ রাইফেলস্ ব্যাটালিয়নের সিপাহী আঃ কাদের। এছাড়া আহত হয় বিডিআর এর হাবিলদার আব্দুল গনি, নায়েক নজরুল ইসলাম, ন্যান্স নায়েক আবু বকর সিদ্দিক, সিপাহি হাবিবুর রহমান ও সিপাহি জাহিদুর নবী । বিডিআর গ্রামবাসীর পাল্টা আক্রমন বিএসএফে’র ১৬ জোয়ান নিহত হয়। বিএসএফ এর তান্ডব পুড় ছাই হয়েছিল বড়াইবাড়ী গ্রামর ৮৯ টি বাড়ি। সরকারি হিসেবে মোট ক্ষতির পরিমান ছিল ৭২ লাখ টাকা। এখন ও কাটেনি সীমান্তে আতংকো গ্রামের মানুষ এখনও দুঃসহ রাত কাঠাচছে। শেষ হয়নি তাদের দুঃখের দিন।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.