প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ১১:৫৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১১, ২০২৫, ১০:১৭ অপরাহ্ণ
সিদ্ধিরগঞ্জে বস্তাবন্দি অবস্থায় দুই নারী ও এক শিশুর খন্তিত লাশ উদ্ধার, আটক ১

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :- নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পশ্চিমপাড়া পুকুরপাড় এলাকায় বাড়ির আঙ্গিনা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় দুই নারী ও এক শিশুর খন্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহত লামিয়ার স্বামী ইয়াসিনকে (৪০) কে আটক করা হয়েছে। নিহতরা হলো স্বপ্না (৩৫), লামিয়া (২২) এবং তার শিশু সন্তান আব্দুল্লাহ লাবীব (৪) ।
শুক্রবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পশ্চিমপাড়া বড়বাড়ি পুকুরপাড় এলাকার মরহুম আক্তার হোসনের ভাড়াবাড়ির পাশ থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় খন্ডিত লাশ তিনটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার সকালে দূর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বড়বাড়ির পাশের একটি আঙ্গিনায় ইটের শুরকির নিচ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। এসময় স্বপ্না ও লামিয়ার মাথা এবং পা বিচ্ছন্ন অবস্থায় লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। আরেকটি বস্তায় শিশু লাবিবের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিক স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই নিহত লামিয়ার স্বামি ইয়াসিনকে ঘটনাস্থলের আশেপাশে ঘুরতে দেখে। লাশ উদ্ধারের সময়ও সে ঘটনাস্থলে ছিলো। পরে নিহতের বোন মুনমুন লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিচয় শনাক্ত করেন। তখন এলাকাবাসী সন্দেহজনকভাবে ইয়াসিনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) তারেক আল মেহেদী জানান, আমরা লাস্ট উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। দুজন নারী ও একজন শিশুর করা হয়। এদের মধ্যে দুজন নারীর দেহ খন্ডিত অবস্থায় পাওয়া যায়। এবং শিশুটিকে অখন্ডিত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনায় সাথে জড়িত সন্দেহে নিহত লামিয়ার স্বামী ইয়াসিনকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নিহতের বড় খালা শিরিন বেগম বলেন, আমার বোনের মেয়েরা বাবা-মা হারা। লামিয়া প্রেম করে বিয়ে করে একটি সন্তানের মা হয়ে সংসার করে যাচ্ছে। আর তার বড় বোন স্বপ্না ছিলো মানসিক ভারসাম্যহীন। চারদিন যাবত তাদের খোঁজ পাচ্ছিলাম না।আজ এসে দেখি আমার বোনের মেয়েরা নিহত। দুই বোনের মধ্যে লামিয়ার স্বামী একজন বখাটে ছিল মাদকাসক্ত ছিলো। তাদের সংসারের প্রায় সৃয় সমস্যা হতো। আমরা জানি না কে তাদের হত্যা করেছে। কিন্তু আমরা এর সঠিক বিচার চাই।
এদিকে নিহতদের বোন মুনমুন জানান, লামিয়ার স্বামী ইয়াসিন ঈদের তিন দিন আগে জেলখানা থেকে ছাড়া পায়। ইয়াসিন মাদকাসক্ত এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানান মুনমুন। তার তার দুই বোন এবং ভাগিনাকে ইয়াসিনই হত্যা করেছে বলে দাবি মুনমুনের। এদিকে এদিকে স্থানীয়রাও ইয়াসিনের কঠিন শাস্তি দাবী করেন। একাধিক এলাকাবাসির সাথে কথা বলে জানা যায় ইয়াসিন পেশায় অটোচালক হলেও পাশাপাশি সে মাদক ব্যাবসার সাথে জড়িত। এ বিষয়ে প্রায় সময়ই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হতো। নিহত লামিয়া একজন পোশাক শ্রমিক ছিলেন বলে জানান তার বোন মুনমুন। নিহত আরেক বোন স্বপ্না মানসিক প্রতিবন্ধি ছিলেন বলে জানায় তার বোন মুনমুন।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.