প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৬, ২০২৬, ১:৫২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ২৭, ২০২৫, ১:৪১ অপরাহ্ণ
কুড়িগ্রাম চিলমারী ও রৌমারী নৌরুটে বন্ধের তিন মাসেও চালু হয়নি ফেরী ভোগান্তির আশঙ্কা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারী ও রৌমারী নাব্য সংকটে বন্ধের তিন মাসেও নৌরুটে চালু হয়নি ফেরি চলাচল ভোগান্তির আশঙ্কা ঈদ ঘরমুখী মানুষের। এ ছাড়া ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা লোগ সানের (গচ্চা) যাচ্ছে । একাধিক সূত্রে জানা যায়, নাব্য সংকট দেখিয়ে খননের নামে ব্রহ্মপুত্র নদের বালু বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে বিআইডব্লিউটির একটি চক্র। ফেরী চলাচল বন্ধ থাকায় চক্রটি নৌকার মালিকদের সঙ্গে যোগসাজশে কমিশন বাণিজ্য করছে বলেও জানা যায়।
চিলমারীর রমনা ঘাট থেকে রৌমারী ফেরী ঘাটের দূরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার। এই ২২ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিতে হয় এই অঞ্চলের মানুষের। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চিলমারী-রৌমারী নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু হয়। ফেরি চলাচল বন্ধ রাখায় ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ রৌমারী ফেরী ঘাট দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের বালু ভর্তি ট্রাক্টর যাতায়াত করায় ফেরী ঘাটটি ও চলাচলের অনুউপযোগী হয়ে পড়েছে ।
অনেকেই বলছেন ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ঈদুল ফিতরে ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তি ও বাড়তি অর্থ খরচ হবে বলে জানান। উত্তরাঞ্চলের সংশ্লিষ্টরা বলছেন যানবাহনগুলো ১৫০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিয়ে যমুনা সেতু হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করি। তবে ফেরিটি চিলমারীর রমনা ঘাট থেকে ফকিরেরহাট ঘাটে স্থানান্তর করা হলে অনেক সময়ে বাঁচবে এই অঞ্চলের বাস, ট্রাক, ছোট গাড়িগুলো অতি সহজে ফেরিতে পারাপার হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবে। এতে যানবাহনগুলোর সময় ও জ্বালানি খরচ অনেকাংশে কমে যাবে।
দিনাজপুর থেকে চিলমারীর ফকিরেরহাটের ঘাটে চাল নিয়ে আসেন ট্রাকচালক লোকমান হোসেন তিনি বলেন, এই ঘাট (ফকিরেরহাট ঘাট) দিয়ে ফেরি চলাচল করলে অনেক সময় বাচবে এবং ফেরীতে বাতির ব্যস্থা চালু করে দিন-রাত চলাচল করতে পারলে উত্তরাঞ্চলের যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাক, ছোট গাড়িগুলো এই রুট ব্যবহার করে অতি সহজে ঢাকায় চলাচল করতে পারবো তাই কর্তৃপক্ষ এই রুটের সমস্যাগুলো সমাধান করলে ফেরীঘাট টি উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে।
বিষয়ে কথাহয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চিলমারীর বাণিজ্য ব্যবস্থাপক প্রফুল্ল্ল চৌহানের সঙ্গে তিনি বলেন, নাব্য সংকটের কারণে গত ২৩ ডিসেম্বর ফেরী চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে আমাদে ফেরী কদম ও ফেরী কুঞ্জলতা চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তত রাখা আছে। বিআইডব্লিউটিএ থেকে নৌরুটের সমস্যা সমাধান হলে ফেরী চলাচলের নির্দেশনা এলে সঙ্গে সঙ্গেই চালু করা হবে।
অভিযোগের কথা অস্বীকার করে বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক শেখ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ওয়াটার লেভেল (পানির স্তর) না বাড়া পর্যন্ত ফেরী চলাচল করা সম্ভব নয়। কেননা, প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে ফেরী চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। তবে রৌমারী ফেরী ঘাটের রাস্তা দিয়ে অবৈধভাবে ট্রাকে করে বালু বহন করার কারণে ফেরী ঘাটের রাস্তাটি নষ্ট হয়েছে। তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হছে ।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.