হোম » সারাদেশ » পঞ্চগড়ে ছোট্ট দিপুকে প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করছে জামায়াত ইসলামী

পঞ্চগড়ে ছোট্ট দিপুকে প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করছে জামায়াত ইসলামী

আল মাহমুদ দোলন: স্মরণকালে পঞ্চগড়ের বোদা করতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাটে নৌকাডুবির নিহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। একই সাথে নৌকাডুবিতে মা-বাবা হারানো ছোট্ট দিপুর পরিবারের দায়িত্ব নেয়ার প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (২৪ মার্চ) বিকেলে দেবীগঞ্জের শালডাঙা ইউনিয়নের ছত্রশিকারপুর হাতিডুবা গ্রামের দিপুর বাড়িতে গিয়ে প্রথম মাসের টাকা তুলে দিয়েছেন জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ইকবাল হোসাইন।

সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে জামায়াত। ছোট্ট সেই দিপুর পরিবারকে মাসে ১০ হাজার টাকা দিচ্ছে দলটি। দিপুর  ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত এ টাকা প্রদান করবে বলে জানান। বড়ভাই দীপন ও পরিতোষই এখন তার অভিভাবক। সেখানে অন্যের  জমিতে বাস করেন তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা সফিউল্লাহ সুফি, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পঞ্চগড় জেলা সভাপতি আবুল বাশার বসুনিয়া, বোদা উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল বাসেত, দেবীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল হালিম, সেক্রেটারি বেলাল হোসেন, দিপুর বড়ভাই দিপন রায় ও পরিতোষ।

এর আগে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেয়ার সময় ৫ বছর বয়সি দিপুর লেখাপড়াসহ যাবতীয় দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দেন  ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বরে মহালয়া উৎসবে অংশ নিতে বোদেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। বোদা উপজেলার মাড়েয়ার আউলিয়া ঘাটে করতোয়া নদীতে নৌকায় উঠে মা-বাবার সাথে যাচ্ছিল তিন বছর বয়সী দিপুও। কিন্তু ওপার ঘাটে না যেতেই নৌকা ডুবিতে প্রাণহানি ঘটে এক নিখোঁজসহ ৭২ জনের। সেদিন ভাগ্যক্রমে দিপু বেঁচে গেলেও জীবিত ফিরেনি বাবা-মা। ঘাট থেকে একদিন মা রূপালী রানী ও তার প্রায় দেড় মাস পর বাবা ভূপেন্দ্রনাথ রায়ের লাশ উদ্ধার করা হয়।

সেই মর্মান্তিক নৌকা ডুবির ঘটনার তিনদিন পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে ছুটে গিয়েছিলেন জামায়াতের আমির ডা.শফিকুর রহমান। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাত করে সমবেদনা জ্ঞাপনসহ প্রত্যেক নিহতের জন্য ৩০ হাজার টাকা করে অর্থসহায়তা দেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিল আবারও পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাত করে আরও ৫ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করেন। সদিন এই ছোট্ট দিপুকে কোলে নিয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব নিতে চাইলেও  তৎকালীন সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং তার স্ত্রী দিপুর দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দেয়ায় সম্ভব হচ্ছিল না।

জামায়াতের আমির চিনিকলে আয়োজিত জনসভায় এভাবেই বলছিলেন কথাগুলো। তিনি বলছিলেন,  আমি খুশি হয়েছিলাম, কিন্তু আজকে দিপুর ভাই পরিতোষকে জিজ্ঞেস করে জেনেছি তারা মাঝে মধ্যে জামকাপড় ছাড়া কোন অর্থনৈতিক সহযোগিতা করেননি। অর্থ ছাড়া দিপু খাবে কি? তার পড়ালেখার কি হবে? আলহামদুলিল্লাহ এই দিপু যতদিন প্রাপ্ত বয়স্ক না হবে ততদিন তার লেখাপড়া চলবে। আমরা এই পরিবারের সাথে প্রতিমাসে এসে হাজির হবো।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!