প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৯:১৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ১৩, ২০২৫, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
মজুতদারের দাপটে আলু সংরক্ষণে ও অতিরিক্ত হিমাগার ভাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং বৈসম্যের শিকার উৎপাদনকারীরা

জাহিদুল হক মিন্টু, নওগাঁ প্রতিনিধি: শস্য ভান্ডার খ্যাত উত্তরের জনপদ নওগাঁ জেলা ধান আমের পাশাপাশি আলুতে ও এগিয়ে আছে জেলার মানুষ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে এ বছর জেলায় ১লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন, মানুষের ভোগের চাহিদা রয়েছে ২৫ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টোন। জেলায় হিমাগার রয়েছে ৮টি যার লোড ক্যাপাসিটি ৩৫ হাজার মেট্রিক টন। অতিরিক্ত আলু নিয়ে সাধারণ উৎপাদনকারীরা আছে দুশ্চিন্তায়। একদিকে সংরক্ষণ ভাড়া বেশি অপরদিকে জায়গা সংকুলান অপরদিকে পূর্ব থেকেই মজুত ব্যবসায়ীরা টোকন জিম্মি করে রেখেছে হিমাগার মালিকের কাছ থেকে ফলে সাধারণ কৃষক বীজ সংরক্ষণের পরিমাণ কম হওয়াই গুরুত্ব হারাচ্ছে হিমাগার মালিকের কাছ থেকে বাজার তুলনা মূলক কম হওয়ায় আগামীতে চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে।
সদর উপজেলা কালিপুর গ্রামের আলু চাষী বাবুর আলী (৫৫) জানান আমি পাঁচ বিঘা মাটিতে আলু চাষ করেছি এ বছর আলুর ফলন অনেক ভালো হয়েছে সব জায়গায় কিন্তু বাজার ভালো না থাকাই আমাকে লোকসান গুনতে হচ্ছে, আমরা কৃষক মানুষ এ সময় আলু বেচে ধানের সার ও ডিপ টিউবলের খরচ বহন করে থাকি। বর্তমান যে বাজার তাতে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি,আমাদের অন্য কোন উপায় না থাকায় লছ করার পরেও এই চাষ নিয়েই থাকতে হয়।
মান্দা উপজেলার কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, আমি দশ বস্তা বীজের আলু সংরক্ষণ করব সেই জায়গা মিলছে না,এটা পচনশিল সবজি খাওয়ার জন্য প্রাকৃতিকভাবে ৬ মাস সংরক্ষণ করা গেলেও বীজ তো আর বাড়িতে রাখা সম্ভব না, বাড়ির বীজ মজুত না রাখলে আগামীতে উৎপাদন আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
নওগাঁ স্ট্যান্ড প্রডিউস লিমিটেডের ম্যানেজার বলেন,দেখুন পার্টির আলু ছাড়া তো হিমাগার পূরণ হবে না, তাই আগে থেকেই আমরা স্লিপ তাদের কাছে এজেন্টের মাধ্যমে বিক্রয় করেছি , আমাদের ব্যাপক খরচ হয় স্টাফ খরচ কারেন্ট বিল সরকারি ভ্যাট ট্যাক্স আছে মালিকের লাভের ও বিষয়ে রয়েছে তবে কৃষক সরাসরি আলু নিয়ে আসলে তাদেরকে আমরা ফেরত পাঠাবো না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেখুন মোট ৮ টি হিমাগার এখানে এবারে আবহাওয়া ভালো থাকাই ফলন লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হয়েছে।সংরক্ষণ ক্যাপাসিটি বাড়ানো গেলে আমাদের জন্য ভালো তবে আমরা কৃষকদের প্রাকৃতিকভাবে আলু সংরক্ষণের জন্য উদ্বুদ্ধ করছি,এতে করে কৃষকের খরচ কমবে লাভবান হবে আরেকটি বিষয় আলু সংরক্ষণে সাধারণ কৃষকদের হিমাগার মালিকপক্ষ অবশ্যই তাদেরকে গুরুত্ব ও প্রাধান্য দিতে হবে।
এ ব্যাপারে নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল আউয়াল এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি বলেন আমি ফোনে কোন মন্তব্য করতে নারাজ আপনার তো প্রয়োজন নিউজ করার তাহলে অফিসে আসেন এতে করে সম্পর্ক বিল্ডআপ হয়। পেশাদারিত্ব কাজের ব্যস্ত থাকার কারণে তার অফিসে যাওয়া সম্ভব হয়নি তার মন্তব্য যোগ করা যায়নি।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.