প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ৬:১৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ১১, ২০২৫, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় ডক সাহেবের ৪৭ তম বাৎসরিক ওরশ সম্পন্ন

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) স্মরণে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ‘শাহসূফী’ খ্যাত আব্দুল খালেক মুন্সি কাদরিয়ার (ডক সাহেব) কেন্দ্রীয় দরবার শরিফে পাঁচ দিনব্যাপী বাৎসরিক ওরশ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত ৫ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ৯ মার্চ পর্যন্ত আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকার ইছাপাশা গ্রামে অবস্থিত বিশ্ব স্মৃতি কাদের মঞ্জিল প্রাঙ্গণে ৪৭তম এই ওরশ অনুষ্ঠিত হয়।
ওরশ শুরুর প্রথম দিন থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষকে ডক সাহেবের দরবার শরিফে ভিড় জমাতে দেখা গেছে। প্রতিবছর স্থানীয় ভক্ত ছাড়াও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কয়েক হাজার মানুষ আসেন এই ওরশে। পাঁচ দিনব্যাপী ওরশে মিলাদ, জিকির-আসকার, ইসলামি ভাবসংগীত ও বিশেষ দোয়া-প্রর্থনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। আগত ভক্ত-আশেকানসহ সকলের জন্য বিনামূল্যে তবারকের ব্যবস্থা রাখা হয়।
দরবার শরিফের পরিচালক ইঞ্জিয়ার মো. ওহিদুজ্জামান মুন্সী (নাঈম) বলেন, এই দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা আমার দাদা হুজুর মহান আধ্যাত্মিক সাধক সুলতানুল আউলিয়া হজরত শাহ সূফি আব্দুল খালেক ডক সাহেব ছিলেন এক অনন্য ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। তার জীবন ছিল আত্মত্যাগ, মানবসেবা ও ইসলামি শিক্ষা প্রচারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবতার কল্যাণে আজীবন কাজ করে গেছেন। তার আদর্শ ও শিক্ষার আলোতে হাজারো মানুষ আলোকিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই ওরশ শুধু ধর্মীয় আচার নয়; বরং মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইসলামের সূফিবাদের শিক্ষা ও মানবতার কল্যাণে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে দরবার শরিফের আহবায়ক মো. ওবায়দুর রহমান মুন্সী ও মো. সিরাজুল হক মুন্সী বলেন, এই দরবার শরিফ শুধু আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্র নয়; বরং সমাজকল্যাণ ও মানবতার সেবা প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। আমরা আমাদের পিতার আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এই ওরশ মোবারকের মাধ্যমে আমরা সবাইকে ইসলামি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে চাই এবং মানবিক মূল্যবোধ ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করতে চাই।
আগত ভক্তদের মধ্যে একজন মো. মাহফুজার। তিনি বলেন, আমি প্রতিবছর এই ওরশে আসি। আগত ভক্ত আশেকানদের জন্য ৪৭ বছর ধরে তবারক রান্নার কাজ করছি। এখানে এসে আমি আধ্যাত্মিক প্রশান্তি পাই এবং আমার মন শান্তিতে ভরে যায়। দরবার শরিফের পরিবেশ অত্যন্ত শান্তিময়।
এক তরুণ ভক্ত মো. আল আলামিন সরদার বলেন, আজকের সমাজে এমন আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি এখানে এসে আমার আত্মিক উন্নতির জন্য অনুপ্রাণিত হই। তাই আগত ভক্তদের সেবায় নিজেকে পাঁচ দিনই নিয়োজিত রাখি।
মানুষের মাঝে আত্মার সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে প্রায় প্রায় চার যুগের বেশি সময় ধরে ডক সাহেব তার নিজ বাড়ি আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ইছাপাশা গ্রামে গড়ে তুলেছেন বিশ্ব স্মৃতি কাদের মঞ্জিল। প্রতি সপ্তাহের বুধবারে ডক সাহেবের সাপ্তাহিক জলসা এবং প্রতিবছর বাংলা ২০ ফাল্গুন থেকে ২৪ ফাল্গুন হাজার হাজার ভক্তদের আগমনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী বাৎসরিক এই ওরশ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আব্দুল খালেক মুন্সি কাদরিয়া ডক সাহেব গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করেছেন।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.