
মোঃ আনোয়ার হোসাইন:
১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষে পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে লেখাপডা শুরু করি। ৪৪ জন বন্ধুর ভিতর ছিলো ৪ থেকে ৫ টি গ্রুপ। কোন গ্রুপে ৫ জন আবার কোনটায় ১০জন। নিজ গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে ছিল একরকম বন্ধুত্ব আর অন্ন গ্রুপের সদস্যেদের সাথে বন্ধুত্ব ছিল আর এক রকম। তবে আমি ছিলাম স্বতন্ত্র বন্ধু,¡
আমার কাছে সবাই সমান কাউকেই আলাদাভাবে ভাবিনি কখন। এভাবেই কখন যে কেটে গেল ৪ টি বছর টেরই পেলামনা। অবশেষে ২০০১ সালে পড়া শেষ করে ঢাকায় এসে এমন এক যান্ত্রিক জীবনে জরিয়ে পরি যেখানে অফিস আর কাজ, কাজ আর অফিস এর বাইরে অন্য কোন জগত নিয়ে ভাবাও যেন এক ধরনের অপরাধ ছিল আমার জন্য। সময়ের পালা বদলে ভুলেই বসেছি সব পুরনো বন্ধুদের।

যাইহোক ঢাকায় এসে শত ব্যস্ততার মাঝেও নিজেকে দুরে রাখতে পারলাম না। বিকেল হলেই পুরনো নেশা থিয়েটাওে যাওয়া। কারণ সব রক্তে মিশে আছে থিয়েটার। যোগ দিলাম ঢাকা থিয়েটার মঞ্চে। ব্যস্ততায় এভাবেই কখন যেন কেটে গেছে পর পর দুটি যুগ টেরও পাইনি। কিন্তু এখনও হৃদয় থেকে মুছে যায়নি সেই বন্ধুদের নাম, তাদের কথা আর স্মৃতি। এরি মাঝে আমার স্ত্রী হঠাৎ একদিন বলে বসলো তুমিতো অনেক বন্ধুদের সাথে পরিচয় করে দিলা কিন্তু তোমার কোন কলেজের বন্ধুদের দেখলাম না। যেই কথা সেই কাজ শুরু করলাম। খোঁজ নেয়া শুরু করলাম।
সৌভাগ্যক্রমে ঢাকার ভিতরেই পেয়ে গেলাম বেশ কয়েকজনকে। সবচেয়ে মজাদার বিষয় আমার পাশের গ্রামে থাকে এক বন্ধু অথচ এক জন আর একজন সম্পর্কে যানতাম না। চলছে আমার বন্ধু খোজা অভিযান। ২৪ বছর পরে না দেখে ফোনে পরিচয় দেওয়া এখানে পরলাম আরও এক সমস্যায়। আমি কোন আনোয়ার এ প্রশ্নের কারণ হলো আমাদের ব্যাচে তিনজন আনোয়ার ছিলাম।
যাইহোক একজন করে ফোন দেই একেক রকম অভিজ্ঞতা হচ্ছে কেউ নিজের ধন সম্পদের বর্ননা দিতে, কেউ নিজেকে অতি উচুমানের ব্যক্তি, কেউ আবার বড আফিসার, কেউ কেউ আমাকে ছোট করে দেখছে। আমি অবশ্য মজাও পাচ্ছি। তবে আমার বিষয় হলো আমাকে নিয়ে কে কি ভাবছে বা বলছে এতে মাইন্ড করিনা, আমাকে আমার কাজ শেষ করতে হবে এটাই আমার কাছে বড়।
যাইহোক সবাইকে খুঁজে বের করতে হবে। বন্ধুদের খোঁজার অদম্য নেশায় খুজতে খুজতে গেলামা আমিরাতের মরুভূমিতে। সেখানে পেলাম মনির নামে এক বন্ধুকে। গভীর সমুদ্রের মাঝে পেলাম আমিনুল নামে এক বন্ধুকে। সে শীপে ডিউটি করছিল। হঠাত দেখি কানাডার বরফের রাস্তায় রউফ নামে আরো এক বন্ধু গাড়ি চালাচ্ছে। এভাবেই ৪৪ জন বন্ধুর মধ্যে ৩৫ জনকে খুজে পেলাম আর ৩৩ জনের সাথে যোগাযোগ করতে পারলাম। এবার মিলন মালার অনুষ্ঠান করার পালা। আবারও শুরু করলাম ফোন দেওয়া।
এদের মধ্যে কয়ক জন মহাখুশী সবার সাথে হবে, যত কষ্ট বা ব্যস্ত থাকি অবশ্যই আসব। সব শেষে যখন কিছু চাঁদার কথা বলি বলে ‘কোন সমস্যা না দোস্ত, সকালবেলা বিকাশে পাঠাব’ এরপর আর ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েকজন রিতিমত আমাকে সন্দেহ করেছে, হয়তো আমি অভাবে আছি, তাই এভাবে সবার কাছ থেকে টাকা নিচ্ছি। অবশ্য সন্দেহ করার কারণও যুক্তি সংগত। ২৪ বছর পর কেউ এ প্রস্তাব কখনোই করে না।
তাছারা আমিতো স্বতন্ত্র বন্ধু কারোরই অতি ঘনিষ্ঠ না। অনেকে অপেক্ষা করল সত্যতা যাচাই করে অংশ নিল। আবার অনেকেই কোন প্রশ্ন না করেই অংশ নিল। কারো কথায় মন খারাপ না করে ধৈর্য্য ধরে আমি আমার কাজ করে যাচ্ছি। অবশেষে সব বাধা উপেক্ষা করে আল্লাহর বিশেষ রহমতে গত ২১শে ফ্রেরুয়ারি ২০২৫ উত্তরায় আভিজাত এক হোটেলে ২৪ বছর পরে প্রথম বন্ধু মিলন অনুষ্ঠানটি ২৩ জন বন্ধুর উপস্থিত হয়ে সম্পন্ন করলাম।

এ অনুষ্ঠান করতে গিয়ে যেমন কিছু বিরক্ত কর তিক্তকর ও আত্মঅহংকারী বন্ধুর সন্ধান পেলাম, ঠিক একইভাবে মিজানুর রহমান ও মিলটনের মতো বন্ধুও পেলাম। যারা মাত্র তিন ঘন্টার অনুষ্ঠানের জন্য বন্ধুত্বের টানে চট্টগ্রাম ও পাবনা থেকে ছুটে আসলো। আরো খুঁজে পেলাম আবদুর রউফ ও মনিরুলের মতো বন্ধু, যারা কানাডা ও দুবাই থেক ভিডিও কলে আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছিল।
এই মিলন মেলা করতে গিয়ে হরেক রকম বন্ধু খুজে পেলাম। সমস্ত সন্দেহ দ্বিধা দন্ধ উপেক্ষা করে যখন মুল অনুষ্ঠান শুরু হলো সবাই তখন মহা খুশি ও আনন্দের জগতে ভাসছে। একের পর এক ধন্যবাদ দিচ্ছে সবাই, তাদের এই মহা আনন্দ দেখে সত্যি বলছি আমারও বুকটা আনন্দে ভরে উঠল। মনে হল যেন আমার পরিশ্রম সার্থক। তবে লক্ষ করে দেখলাম যেন আগের মতো এখনো সেই গ্রুপ বন্ধুর পার্থক্য।
তবে সবাই সব ভুলে নতুন করে শপথ করলাম এ বন্ধুত্বের বন্ধন আর ভাঙ্গতে দিবনা, প্রত্যেকে প্রত্যেকের পাশে থাকবো অর্থ বা রক্ত দিয়ে হলেও। অবশেষে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই বন্ধু আনোয়ার ( ব্লাক) ও বন্ধু মিজানুর রহমান মাখন কে অনুষ্ঠানের ঘার্তি অর্থ অনুদান দিয়ে পূরণ করার জন্য।

আরও পড়ুন
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ