
রায়হান আলীঃ কোল্ড স্টোরেজে আলুর বস্তা সংরক্ষণে ভাড়া বাড়ানোর কারণে সমস্যায় পড়েছেন আলু ব্যবসায়ী ও চাষীগণ। এ বার এমনিতেই আলুর দাম কম। তার উপর পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। সেই সাথে সংরক্ষণের ভাড়া বাড়ানোর কারণে মাথায় হাত উঠেছে আলু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের। তবে উল্লাপাড়ার হাটিকুমরুলে এ বছর নির্মিত নয়ন কোল্ড স্টোরেজে প্রথম আলু রাখছেন এখানকার চাষী ও ব্যবসায়ীরা। যদিও এই কোল্ড স্টোরেজের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। তবে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বস্তা প্রতি আলু কোল্ড স্টোরেজে রাখতে খরচ হচ্ছে প্রতি কেজি ৮ টার,পরিবহন ব্যয় কেজি প্রতি ১০ টাকা, ঘটতি কেজি প্রতি ২ টাকা এবং আলুর মূল্য ৬ মাস পর কোল্ড স্টোরেজ থেকে বের হয়ে কেজি প্রতি প্রায় ৪০ টাকা। আলু ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তা নিয়েই কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষণ করছে। বর্তমানে আলুর দাম অনেক কম,৬ মাস পর কেজি প্রতি ৪০ টাকার বেশি না হলে অনেক লোকসান গুনতে হবে।
উল্লাপাড়ার খালিয়াপাড়া গ্রামের আলু ব্যবসায়ী মোঃ মিরাজুল ইসলাম, রামকান্তপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মাহমুদুল আলম ও এনামুল হক জানান, এবছর আলুর দাম খুবই পড়ে গেছে। তার উপর কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বাড়ানোর কারণে তারা অনেক সমস্যায় পড়েছেন। স্থানীয়ভাবে পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। উল্লাপাড়ায় রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থিত পুরোন কোল্ড স্টোরেজটি এর মালিকের মৃত্যুতে কয়েক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে উল্লাপাড়া সিরাজগঞ্জের অধিকাংশ কৃষকদের বগুড়ার বিভিন্ন কোল্ড স্টোরেজে আলু রাখতে হচ্ছে। উল্লাপাড়া থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরবর্তী এসব কোল্ড স্টোরেজে আলু পরিবহন ব্যয় অনেক বেড়েছে। তার উপর ভাড়া বাড়ানোর কারণে এবার তাদের লোকসান গুণতে হবে। এসব ব্যবসায়ী আরও জানান, উল্লাপাড়ায় নব নির্মিত নয়ন কোল্ড স্টোরেজের ধারণ ক্ষমতা ৬০ হাজার বস্তা। এতে এই জনপদের উৎপাদিত আলু এখানে পুরোটা সংরক্ষণ সম্ভব নয়। তাদেরকে বগুড়াতেই যেতে হবে।
এ বিষয়ে হাটিকুমরুলে অবস্থিত নয়ন কোল্ড স্টোরেজের মালিক মোঃ শুভ’র সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, ৬০ কেজির প্রতি বস্তা আলু তারা পুরো মৌসুম সংরক্ষণ করে বস্তা প্রতি ৩৫০ টাকা করে নির্ধারণ করেছেন। যেহেতু এবার প্রথম আলু সংরক্ষণ শুরু করছেন তাই তারা অন্য এলাকার তুলনায় ভাড়া একটু কম নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা প্রথমবার এখানে আলু সংরক্ষণে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
বগুড়ার খন্দাকার কোল্ড স্টোরেজের স্বত্তাধিকারী মাহবুবুর রহমান জানান, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ বছর তারা ৬৫ কেজির প্রতি বস্তায় ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা বাড়ানোর বিষয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধির পরিমান চূড়ান্ত হয়নি। এ যাবত প্রতি বস্তায় ভাড়া নিয়েছেন ৩৫০ টাকা করে বলে উল্লেখ করেন মাহবুবুর রহমান।

আরও পড়ুন
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ