
এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ বগুড়ার ধুনটে চেয়ারম্যান বিহীন স্থবিরতা দেখা দিয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের দৈনন্দিন কার্যাবলীতে। উপজেলার ৯নং মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হাসান আহমেদ জেমস মল্লিকের অনুপস্থিতি জনিত কারণে এমন বিপাকে পড়েছে ইউনিয়নবাসী। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে পরিষদের যাবতীয় কাজ প্যানেল চেয়ারম্যানের করার নিয়ম থাকলেও হাসান আহমেদ জেমস মল্লিক কাউকে ওই পদে নিযুক্ত করেননি বলে জানা গেছে৷ ফলে পরিষদের সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
ইউপি সূত্রে জানা যায়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতাদের দায়েরকৃত নাশকতা ও অগ্নিসংযোগ, হত্যাচেষ্টা সহ ৪ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় ইউপি চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ জেমস মল্লিককে। উক্ত মামলায় বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন। যার ফলে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে স্থবির হয়ে পড়েছে ইউপি সংশ্লিষ্ট সকল কার্যাবলি।
কয়েকজন ইউপি সদস্য জানান, প্যানেল চেয়ারম্যান না থাকায় ও বর্তমানে প্যানেল চেয়ারম্যানের অনুমোদন আসতে দেরী হওয়ায় জন্মনিবন্ধন সনদ, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, পরিচয়পত্র না পাওয়া সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউনিয়নবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন৷ জন্মনিবন্ধন সনদ না পাওয়ায় ভোটার হালনাগাদেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে৷
ইউপি সদস্য আজাহার আলী বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে প্যানেল চেয়ারম্যান নিযুক্ত করার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান সেটা করেনি। গত ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর অন্য ইউপি সদস্যদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে চেয়ারম্যানের নিজের পছন্দের প্রার্থীকে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। যেটা অন্য ইউপি সদস্যরা মেনে নেইনি।চেয়ারম্যানের এমন নিয়ম বহিভূত কাজের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের তদন্তও করেছে। তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ও সীল দিতে না পারায় ইউনিয়নের বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড অনুমোদনে জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে উপকারভোগীরা সরকারের দেওয়া অনুদান থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় আছেন।
ইউপি সচিব মিজানুর রহমান মাসুদ বলেন, উর্ধ্বতন কর্মকতা ইউএনও মহোদয় পরবর্তী নির্দেশনা দিলে তবেই অফিসিয়াল কার্যাবলী স্বচল রাখা সম্ভব। বিশেষ করে জন্মনিবন্ধন সাইডটি চেয়ারম্যানের ইউজার আইডি থেকে উর্ধ্বতন কর্মকতাকে প্রেরণ করতে হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রত্যয়ন প্রদান এবং গ্রাম্য আদালত পরিচালনা চেয়ারম্যানের এখতিয়ার ভুক্ত।
সেবা প্রত্যাশীরা জানান, জন্ম নিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, ওয়ারিশ সনদ, আয় সনদ সহ বিভিন্ন প্রত্যয়ন পত্র জটিলতায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে তারা। এ থেকে উত্তরণের জন্য প্যানেল চেয়ারম্যানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন সচেতন নাগরিক গোষ্ঠী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খৃষ্টফার হিমেল রিছিল বলেন, চেয়ারম্যান না থাকার কারণে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা মোতাবেক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুতই এ সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন
‘বাড়ি জামালপুরে’—এটুকুই মনে আছে; পরিচয়হীন অসহায় নারী খুঁজছেন স্বজনদের
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার