প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১১:৫২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৫, ৫:২০ অপরাহ্ণ
আলোচিত সেই সাকিককে আটক করে পুলিশে দিল শিক্ষার্থীরা

মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী কক্সবাজার: রাজধানীতে ছাত্রদের উপর হামলার ঘটনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের কর্মরত সহকারী প্রকৌশলী শফিউল আলম প্রকাশ সাকিবকে ধরে পুলিশে দিয়েছে ছাত্ররা। ছাত্রদের আন্দোলনে বাধা দিতে গিয়ে তিনি সোমবার দুপুরে ছাত্ররা ধরে পুলিশে দেয়। শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় গুলশান থানা পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আটক করে রেখেছে। তার বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা থানা ঘেরা করে রেখেছে। দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত সাকিবের বিরুদ্ধে দুদকের ৪টি মামলা চলমান রয়েছে।
২০১১ সালে কক্সবাজারের উখিয়ায় উপজেলা প্রজেক্ট ইমফ্লোমেন্টারী অফিসার (পি আই ও) হিসাবে সরকারী চাকরীতে যোগ দেয়ার পর থেকে যেনো আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। নামের সাথে উপাধি লাগায় ‘সাকিব’। প্রথম পোস্টিং উখিয়ায় থাকাকালে ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে ৩৮১ জন শ্রমিকের বিপরীতে ৯টি প্রকল্পের কর্মসুচি নেয়া হয়। এর মধ্যে ‘বালুখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল খেলার মাঠ সংস্কার ও বালুখালী ছড়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প’ এর কাজ কাজ দেখিয়ে ২০৬ জন শ্রমিকের বিপরীতে ১৪ লাখ ৩৭ হাজার ৬২৫ টাকা অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির সরকারী নীতিমালা অনুসরণ না করে আত্মসাৎ করে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুদক ৭টি দায়ের করে। এর পর কক্সবাজার সদরে এসেও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে দুদক চট্টগ্রাম-২ এর একটি টিম ২০১৭ সালে ৩১ জানুয়ারি তাকে গ্রেফতার করে। এসময় তিনি ৪ মাসের অধিক সময় জেল হাজতে ছিলেন্। যার মামলা নং উখিয়া থানা মামলা নং ১৩, ১৫, ১৬ ও ১৯। তারিখ ১২/০৫/১৫ ইং। চট্টগ্রামের স্পেশাল জজ আদালতে মামলাগুলো বিচারাধীন। যার বিশেষ মামলা নং-১১/২০ সাফাই সাক্ষীর জন্য ও ২১/১৭, ৪৫/২২, ৪৬/২২ সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য অপেক্ষমাণ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী চার্জভুক্ত আসামী হওয়ার পর সাময়িক ওএসডি করার বিধান থাকলেও কোন ক্ষমতার বলে অভিযুক্ত সহকারী প্রকৌশলী শফিউল আলম সাকিব এখনও বীরদর্পে সরকারি চাকরি চালিয়ে যাচ্ছেন-এই প্রশ্ন সর্বমহলে। সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলনে আওয়ামী স্বৈরশাসক পতনের পর বিভিন্ন অভিযানে বড় বড় রাঘববোয়ালদের একজন ত্রাণ ও দুর্যোগ অধিদপ্তরের সচিব শাহ কামাল ৩ কোটি টাকা ও বিদেশি মুদ্র সহ গ্রেফতার হলে নড়েচড়ে বসে গ্রেফতারকৃত সচিব শাহ কামালের অন্যতম সহযোগী অভিযুক্ত শফিউল আলম সাকিব। কিন্তু এখনও কৌশলে শফিউল ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে সব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।
কীভাবে এই অভিযানে এখনও এত বড় দূর্নীতিবাজ অফিসার সহকারী প্রকৌশলী শফিউল আলম সাকিব ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে এই প্রশ্ন সবার? সরজমিনে তদন্ত করে জানাযায় অভিযুক্ত শফিউল আলম সাকিব এর দূর্নীতি করা সম্পদের পরিমাণ প্রায় শত কোটি টাকার উপরে। গড়েছেন নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড়, নিজ স্ত্রী কে লন্ডনে বসবাসের মাধ্যমে টাকা পাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে। তার নিজ গ্রাম চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানাধীন চরম্বা এলাকার সচেতন মহল অভিযোগ করে বলেন একজন সামান্য সহকারী প্রকৌশলী হয়ে কীভাবে শফিউল আলম সাকিব শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেলেন?
মুজিব কেল্লা প্রকল্প যাদের চাকরি দিয়ে শাহ কামালসহ বানিজ্য করছে। সিলেটে আথিরা ক্রাসিং নামীয় পাথর ব্যবসা এবং ক্যাবল ব্যবসায় জড়িত। চট্টগ্রাম শহরে বাকলিয়ায় ল্যান্ডশেয়ার ভিত্তিক ফ্ল্যাট, ঢাকায় মোহাম্মদপুরে ফ্ল্যাট বাড়ী, স্ত্রীকে লন্ডনে পড়ালেখা করার নামে প্রচুর অর্থ পাচার এবং গ্রামের বাড়ীতে আড়াই কোটি দামের বিলাসবহুল বাড়ী সহ নামে-বেনামে অনেক জায়গা সম্পত্তি, বিভিন্ন মানুষের কাছে প্রচুর নগদ অর্থ রয়েছে। টেকনাফের আলোচিত এমপি এমপি বদি এবং হাসিনার উপদেষ্টা বিপ্লব বড়ুয়ার গভীর সখ্যতা গড়ে উঠে মূলত ইয়াবা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিায়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের লোহগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের আতিয়ার পাড়া গ্রামের অতিদ্ররিদ্র পরিবারের সন্তান শফিউল আলম বাইয়ার পাড়া সরকারি প্রাইমারি থেকে ১৯৯৭ সালে ফাইভ পাশ করেছে তৎকালীন প্রধান শিক্ষকের আর্থিক সহযোগিতায়। বাঁশ-বেতের কাজ করে সন্তানদের তিনবেলা খাবার জোগাড় করাও তার পক্ষে অসম্ভব ছিল। সেই পিতার সন্তান সাকিব আজ কোটিপতি। দেশেবিদেশে তার কোটি কোটি টাকার সম্পদ।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.