প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ১০:৪৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ২৮, ২০২৪, ১২:০৪ অপরাহ্ণ
সোনাইমুড়ীতে টেন্ডার আবেদনে ব্যর্থ হয়ে সংবাদ সম্মেলন!

মোহাম্মদ হানিফ (নোয়াখালী): প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে খাদ্যবান্ধব ডিলার নিয়োগের শেষ দিনে টেন্ডার আবেদনে ব্যর্থ হয়েছেন জামায়াতপন্থী ব্যবসায়ীরা। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের লাইসেন্স পরিদর্শকের অপসারণের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেন।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার(২৬ ডিসেম্বর) সকালে জামায়াতপন্থী ব্যবসায়ীরা টেন্ডার বাতিলের জন্য অনুরোধ করলেও নিয়মের বাইরে যাননি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পরে সন্ধ্যায় সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয় উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের লাইসেন্স পরিদর্শক আবদুল করিম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আকতারের অপসারণের দাবিতে ভুক্তভোগী জনসাধারণের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
জামাতের উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ফিরোজ আলম ভুট্টুর নেতৃত্বে জামাতপন্থী বেশ কয়েকজন ব্যক্তি সংবাদ সম্মেলনে ফুটগ্রেইন লাইসেন্স ও টেন্ডার আবেদনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, সোনাইমুড়ী উপজেলায় খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয়েছে। ডিলার আবেদনের শর্ত ছিলো ফুটগ্রেইন লাইসেন্স থাকা। তবে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লাইসেন্স প্রদান করেছে। প্রকৃত আবেদনকারী ব্যবসায়ীদের অদৃশ্য কারণে লাইসেন্স প্রদান করা হয়নি।
তারা আরো অভিযোগ করেন, লাইসেন্স পরিদর্শক আবদুল করিম তাদের কাছে ঘুষ দাবী করে। সেই টাকা না দেওয়ায় যথাযথ নিয়মে আবেদন করেও তারা ফুটগ্রেইন লাইসেন্স পাননি। যে কারনে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেন্ডার আবেদন করতে পারেননি।
এছাড়া উপজেলার ৯টি স্পটে অনিয়মের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ফুটগ্রেইন লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। আর এসকল অভিযোগ উপস্থাপন করে খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের লাইসেন্স পরিদর্শক আবদুল করিম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আকতারের অপসারণ দাবী করেন।
অনুসন্ধানে সেসকল অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। উল্টো সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তোলা নামসর্বস্ব ব্যবসায়ীদের ফুটগ্রেইন লাইসেন্স পেতে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার প্রমান মিলেছে।
গত ২৭ অক্টোবর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব কুল প্রদীপ চাকমার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি কার্যক্রমের ডিলারশীপ আবেদনের জন্য 'ফুড গ্রেইন লাইসেন্স' সংযুক্তের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়। অপর দিকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের তথ্য বলছে, ফুড গ্রেইন লাইসেন্স পেতে আবেদনকারীকে অবশ্যই খাদ্য শস্যের দোকানী বা ব্যবসায়ী হওয়া বাধ্যতামূলক।
অনুসন্ধানের তথ্য বলছে, সংবাদ সম্মেলনে অনিয়মের অভিযোগ তোলা মাকসুদুর রহমান নান্দিয়াপাড়া বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী। তবে তিনি ফুটগ্রেইন লাইসেন্স পেতে নান্দিয়া পাড়া ঠিকানা দেখিয়ে 'ভূইয়া ট্রেডার্স' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে আবেদন করেন। ওই প্রতিষ্টানের নামের সাইনবোর্ড সম্বলিত একটি ছবি তিনি লাইসেন্স আবেদনের সাথে যুক্ত করেন।
তবে লাইসেন্স পরিদর্শক ২৩ ডিসেম্বর সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে ভূইয়া ট্রেডার্স নামের কোন প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড খুঁজে পাননি। মাকসুদুর রহমানের আবেদনে দেওয়া দোকানের চুক্তিপত্রের স্টাম্পটির ফটোকপিতে কোন নাম্বার ছিলোনা। এছাড়া আবেদনের সময় তিনি দোকানের চুক্তিপত্রে মূল কাগজ দেখাতে ব্যর্থ হন। এলাকাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ভূইয়া ট্রেডার্স নামে আবেদন করা দোকানটির নাম মূলত তানিয়া ভ্যারাইটিজ স্টোর।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সোনাইমুড়ী কলেজ গেট এলাকার রড-সিমেন্টের দোকানদার নূর নবী। তিনি নূর নবী ষ্টোরের নামে ফুড গ্রেইন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন। তবে তার মূল ব্যবসা রড-সিমেন্ট সহ নির্মাণ সামগ্রীর। তিনি সাইনবোর্ড বিহীন একটি মুদি দোকানকে নিজের দাবি করে লাইসেন্সের আবেদন করেন। সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে কোন মুদি দোকানে নূর নবী ষ্টোর নামের সাইনবোর্ড পাওয়া যায়নি।
ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের বিষয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসের লাইসেন্স পরিদর্শক আব্দুল করিম জানান, তিনি কোন অবৈধ অর্থ দাবি করেন নি। লাইসেন্স আবেদনকারীদের অধিকাংশেরই সঠিক কাগজ-পত্র ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না থাকায় লাইসেন্স দেওয়া সম্ভব হয়নি। অনেকে ব্যবসায়ী না হয়েও খাদ্যবান্ধব ডিলার নিয়োগের জন্য ভুয়া কাগজ-পত্র দিয়ে লাইসেন্স পেতে আবেদন করেছেন।
সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আকতার জানান, খাদ্যবান্ধব ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে এমন কোন তথ্য তার জানা নেই। তিনি সরকারি নিয়ম অনুসরণ করেই টেন্ডার আবেদন সম্পন্ন করেছেন। এই বিষয়ে কোন অভিযোগ থাকলে লিখিত ভাবে উপস্থাপনের কথা বলা হয়েছিলো। তবে এবিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.