হোম » প্রধান সংবাদ » আমতলীতে ফাতেমা অটো রাইস মিলে  অবৈধভাবে সরকারি চাল বরাদ্দ

আমতলীতে ফাতেমা অটো রাইস মিলে  অবৈধভাবে সরকারি চাল বরাদ্দ

বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলী উপজেলার খলিয়ান বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ফাতেমা অটো রাইস মিলে অবৈধভাবে সরকারী চাল বেশী বরাদ্দ নেয়ার পায়তারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুরে আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়নে সংবাদ সম্মেলন এ অভিযোগ করেছেন আমতলী হ্যাসকিন রাইস মিল মালিকের পক্ষে ছত্তার রাইস মিলের মালিক মোঃ তুহিন মৃধা।লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, উপজেলা খলিয়ান বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ফাতেমা অটো রাইস মিল গত দুই বছর আগে নিমার্ণ কাজ শুরু করেন। ওই রাইস মিলটি এখন পর্যন্ত নিমার্ণ কাজ শেষ হয়নি। সরকারী চাল বেশী বরাদ্দ  নেয়ার জন্য শুধু কাগজে কলমে মিল দেখিয়েছেন মিল মালিক মোঃ দেলোয়ার হোসেন কিন্তু বাস্তবে ওই মিলে এখন পর্যন্ত চাল উৎপাদন হচ্ছে না।
গত অর্থ বছরের বোরো মৌসুমে আমতলী খাদ্য অফিসের কিছু অসাধু কর্মকতার্র যোগসাজসে ৩১৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ নিয়েছেন। ওই চাল বাজার থেকে সংগ্রহ করে খাদ্য গুদামে সরবরাহ করেছেন। যা সম্পূর্ণ অবৈধ। তিনি আরো বলেন, মিলটি বর্তমানে উৎপাদন অযৌগ্য। এ বছর আমন মৌসুমের সরকারী বড় ধরনের একটি বরাদ্দ নেয়ার জন্য খাদ্য অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজসে পায়তারা চালাচ্ছেন। ওই মিলটিতে পুরানো অকেজো বয়লার ও ড্রায়ার দ্বারা কোন মতে চালিয়ে মিথ্যা সার্ভে রিপোর্ট করিয়েছেন।
ওই মিলের কোন ট্রেড লাইসেন্স নেই। ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই মিলের নিমার্ণ কাজ শুরু করেছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, বরগুনা সদর (ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম) কর্মকতার্ মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন বিপ্লব তার বাড়ী আমতলী উপজেলার নীলগঞ্জ গ্রামে। তিনি আমতলী খাদ্য অফিসে প্রভাবখাটিয়ে ফাতেমা অটো রাইস মিলকে সরকারী সকল বরাদ্দ দিয়ে থাকেন। ফাতেমা অটো রাইস মিলকে সরকারী বরাদ্দ দেয়ায় উপজেলার ১৬ টি হ্যাসকিন রাইস মিল এখন বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
দ্রুত তদন্তপূর্বক ফাতেমা অটো রাইস মিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন এবং ১৬ টি হ্যাসকিন রাইস মিলকে বন্ধের উপক্রম থেকে রক্ষার দাবী জানাই। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মিল মালিক ছিদ্দিকুর রহমান মৃধা, ফেরদৌস মোল্লা, রাকিব, আবুল গাজী, আনোয়ার গাজী ও শামিম বয়াতি।ফাতেমা অটো রাইস মিলের মালিক মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি সরকারী নিয়মনীতি মেনেই অটো রাইস মিল করেছি। আমার মিল থেকে বর্তমানে হাজার হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হচ্ছে। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা লোকজন এসে ধান ভেঙ্গে চাল করে নিয়ে যাচ্ছেন। আমার বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ তুলেছেন তাদের মিলে কোন ধরনের উৎপাদন নেই।
তারা সরকারী বরাদ্দ নিতে মিথ্যা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের  কাছে উপজেলার সকল মিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানাই। তিনি আরো বলেন, তদন্ত করে যদি আমার মিলে কোন ধরনের অসংগতি পায় তাহলে আমার সরকারী চাল বরাদ্দের কোন প্রয়োজন নেই। আর যদি তাদের মিলে অসংগতি থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানাই।আমতলী সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোতাহার উদ্দিন মৃধা বলেন, ফাতেমা অটো রাইস মিলের মালিক আমার কাছ থেকে কোন ট্রেড লাইসেন্স নেয়নি। ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই মিল নিমার্ণ করেছেন।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!