প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৯:১২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ১৮, ২০২৪, ২:০১ অপরাহ্ণ
উচ্চ ফলনশীল ‘ব্রি ধান-১০৩,নতুন জাতের ধান চাষে কৃষকের মুখে হাসি

মেহেদী হাসান মামুন,তজুমদ্দিন(ভোলা)প্রতিনিধি: দ্বীপজেলা ভোলার মধ্যবর্তী উপজেলা তজুমদ্দিন,প্রতি বছরই এখানে ধানের বাম্পার ফলন হয়।প্রতি বছর উপজেলার কৃষি অফিস এখানকার কৃষকদেরকে দিয়ে বিভিন্ন জাতের বীজ দিয়ে পরীক্ষামূলক চাষাবাদ করান। এজন্য কৃষকদেরকে ফ্রি বীজ, সার ও বালাইনাশক ওষুধসহ বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবছর তজুমদ্দিন চাঁদপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া ৩ জন কৃষককে দিয়ে ২ একর জমিতে উচ্চ ফলনশীল নতুন জাতের আমন ব্রি ধান-১০৩ জাত চাষাবাদ করা হয়েছে।
তজুমদ্দিন এই প্রথম আমন ধানে নতুন আলো ছড়াচ্ছে তজুমদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ধানের নতুন জাত ব্রি ধান১০৩। স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন এ ধানের জাতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের চেয়ে অনেক কম হয়েছে।এ জাতটি বিদ্যমান জাতের তুলনায় বিঘা প্রতি ১ থেকে ২ মণ বেশি ফলন দিয়েছে। খড়ের উৎপাদনও বেশ ভালো। আমন মৌসুমে সবেচেয়ে বেশি ফলন দিতে সক্ষম,চিকন নতুন এ জাতের ধান কৃষকের মাঠে প্রথম চাষাবাদে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে আশার আলো জাগিয়েছে।
তজুমদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, আমরা ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্রি ১০৩ উদ্ভবিত উচ্চফলনশীল এই ধান নিয়ে তজুমদ্দিন উপজেলায় কাজ করছি। চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় চাঁদপুর ইউনিয়ন দত্তপাড়া ব্রি ধান১০৩ এর প্রদর্শনী একটি প্লট করা হয়েছে।
চাঁদপুর ইউনিয়নের চাষী, তফেল চন্দ দে,আপেল দুতী জানান, এবছর উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় নতুন জাতের আমন ব্রি ধান-১০৩ চাষ করেছি। অফিস থেকে আমাদেরকে বিনামূল্যে ধানের বীজ, সার, কীটনাশক ও বীজ সংরক্ষণের জন্য ড্রাম প্রদান করা হয়েছে। তারা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা তাদের পরামর্শ মতো চাষাবাদ করেছি।এ বছর আমন সৌসুমে এ ধান সবচেয়ে বেশি ফলন দিয়েছে।
এ ধান চাষাবাদ করে আমরা ১ ফসলী জমিকে ২ ফসলী ও ২ ফসলী জমিকে ৩ ফসলী জমিতে পরিণত করতে পারব।ফসলের নীবিড়তা বৃদ্ধি করে কৃষকেরা লাভবান হবেন।এ জাতটি রোপা আমন মৌসুমে বৃষ্টিনির্ভর চাষাবাদ উপযোগী।এ ধানের চাষাবাদ অন্যান্য উফশী রোপা আমন ধানের মতোই।সারের মাত্রা অন্যান্য উফশী জাতের থেকে অনেক কম লাগে।এ ধানের জাতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ নেই বললেই চলে।তাই ধান উৎপাদনে খরচ সাশ্রয় হয়।আমরা আগামী আমন মৌসুমে কৃষকদেরকে দিয়ে এ জাতের ধান বেশি বেশি চাষাবাদ করাব।সেভাবেই বীজ উৎপাদন করছি।
চাষি সুজিৎ কুমার দত্ত বলেন, আমার ব্লকে ব্রি ধান১০৩ এর ১টি প্রদর্শনী প্লট করে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।এই ব্লকে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।অনেক কৃষক লাভজনক এ ধান চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ব্রি১০৩ বীজ দিলে আগামী বছর তারাও এ ধানের চাষাবাদ ছড়িয়ে দিতে পারব। এতে দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.