প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১৪, ২০২৬, ১২:৫৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ৯, ২০২৪, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
শীতে কাঁপছে লালমনিরহাট, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

মিজানুর রহমান: তীব্র শীতের সঙ্গে হিমেল হাওয়া বইছে উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে। এ শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে জীবন-যাপন করছে জেলার বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া ছিন্নমূল ও দিন মজুর শ্রেণীর হাজার হাজার মানুষ। শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি সাহায্য সহযোগিতার পাশাপাশি সমাজের বৃত্তবানদের এগিয়ে আসার প্রত্যাশা ভুক্তভোগী অসহায় মানুষজনদের।
এ মাসের শুরু থেকে ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাশে সীমান্তবর্তী লালমনিরহাটে শীতের তীব্রতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ফলে জেলাবাসীরা শীতে কাঁপছে। তবে এবারের শীতের শুরুতে সব চেয়ে কাবু হয়ে পড়েছে ছিন্নমূল, তিস্তা-ধরলা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলের দরিদ্র্য পরিবার ও দিন মজুর শ্রেণীর মানুষেরা। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী, শিশু-বৃদ্ধ ও শ্রমজীবি খেটে খাওয়া মানুষজন। এসব মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।
অপরদিকে, অস্বাভাবিক ঠান্ডায় জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যেও মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। ফলে, আয় কমে গেছে দিন মুজুরদের। জেলা শহরে ঠান্ডা নিবারণের জন্য পুরাতন কাপড়ের দোকান গুলোতে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই তা কিনতে পারছে না। সব মিলিয়ে শীত ও হিমেল হাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, শীতে বৃদ্ধ-শিশুরা সর্দি-জ্বর, আমাশয়, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এজমাসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অন্যান্য দিনের তুলনায় রাতে রাস্তাঘাটে স্বল্প পরিমানে যানবাহন চলাচল করছে। সবমিলে গত এক সপ্তাহে শীতে কাবু করে ফেলেছে জেলাবাসীকে। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় আকাশ। প্রতিদিন বিকেল থেকে শুরু হয় বৃষ্টির মত শিশির পড়া। বেশি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাহিরে যায় না। ফলে, দিন মুজুর ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো ঠান্ডায় কাজ কর্ম না করে অলস সময় কাটাচ্ছে ঘরে বসেই।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় অবস্থিত দেশের তৃতীয় বৃহত্তর স্থলবন্দর বুড়িমারীতে খেটে খাওয়া শ্রমিক শুভন মিয়া (৪০), হারুন মিয়া(৫১) ও আলী আহম্মেদ(৪২)সহ কয়েক শ্রমিকের সঙ্গে কথা হয় তারা বলেন, এবার যে ভাবে ঠান্ডা পড়তেছে তাতে হামরা (আমরা) কাজে যেতে পাড়ছি না।
লালমনিরহাট সদরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ আব্দুল মোকাদ্দেম জানান, হাসপাতালে কয়েকদিন থেকে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বাড়তেছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি রোগীদের সেবা দিতে ।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচএম রকিব হায়দার বলেন, প্রতি বছর এই এলাকায় শীতের দাপট অনেকটাই বেশি থাকে। তাই ঠান্ডার কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.