হোম » প্রধান সংবাদ » জৈনা-কাওরাইদ রাস্তা সংস্কারে নজিরবিহীন  অনিয়ম। 

জৈনা-কাওরাইদ রাস্তা সংস্কারে নজিরবিহীন  অনিয়ম। 

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনা বাজার থেকে সরাসরি পূর্ব দিকে কাওরাইদ পর্যন্ত প্রায় ১৪.৭ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে লুটপাট করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শান্তা এন্টারপ্রাইজ। ৪০% কাজের মধ্যে অন্ততঃ ১০% কাজেই লুটপাটের চিন্হ এখনো দৃশ্যমান।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ৩০ তারিখে এই রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য লিখিতভাবে দায়িত্ব দেওয়ার সময় নভেম্বর মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ করার সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। যথাসময়ে মাত্র ৩০% কাজ শেষ করায় পূনরায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদনের করলে ২০২০ সালের ৩০শে জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দেখা যায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার কাজে নিম্নমানের খোয়া ও ইট ব্যবহারের মাধ্যমে লুটপাট  অব্যাহত রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। তিন নম্বর ইট এবং নম্বর ছাড়া ইটও ব্যবহার করেছে অনেক স্থানে। জৈনাবাজার থেকে লাল পুকুরপাড়ের মধ্যে  নিম্নমানের সামগ্রী দৃশ্যমান রয়েছে এক কিলোমিটার, ত্রিমোহনী মোড় সংলগ্ন উভয় দিকে দুই কিলোমিটার রাস্তায়ও দুর্নীতির চিত্র দৃশ্যমান রয়েছে। ত্রিমোহনী মোড় থেকে পশ্চিমে প্রায় এক কিলোমিটার ও পূর্ব দিকে এক কিলোমিটার রাস্তায় তিন নম্বর ইটের খোয়ার ব্যবহার দেখা গেছে।
চুক্তি সূত্রে রাস্তাটির ধরন যে রকম থাকার কথা , রাস্তাটির প্রস্থ ৫ মিটার, দৈর্ঘ্য ১৪৭০০ মিটার, যে খোয়া ব্যবহার করতে হবে সেটার নাম ডব্লিউবিএম, রাস্তার কার্পেটিং ঠিক করা হয়েছে দেড় ইঞ্চি, সংস্কার বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ কোটি ৪৫ লাখ ২০ হাজার নয়শত  টাকা।নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা প্রসঙ্গে  রাস্তাটিতে দায়িত্বে থাকা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রাকিবুল ইসলাম জানান, শুরুর দিকে ৫০০ মিটার রাস্তায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার পর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠায় রাস্তায় ভালো মানের খোয়া ও ইট ব্যবহার করছি। এছাড়া রাস্তা নির্মাণ সামগ্রীর দাম আগের থেকে বেড়ে যাওয়ায় আমাদের এই রাস্তাটিতে লাভ হওয়ার কোনও সম্ভবনা নাই।
উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার তারেক হাসান বাচ্চু জানান, এই রাস্তাটি দিয়ে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। কিছুদিন আগে আবদার এলাকায় রাস্তাটিতে নম্বর ছাড়া খোয়া ও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার সময় আমি প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। ফেসবুকে লেখালেখি করেছিলাম, এরপর  ভালো খোয়া ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তবে এর আগে রাস্তায় যে নিম্নমানের খোয়াগুলো ব্যবহার করেছিল তা নিচে রেখেই চাপা দিয়ে কাজ চালিয়ে যায়। সেগুলো সরিয়ে নেয়নি কর্তৃপক্ষ’।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সংস্কার করায় অল্প সময়ে রাস্তাটির বেহাল অবস্থা হয়ে যায়। এবারও রাস্তাটিতে লুটপাট করছে কর্তৃপক্ষ।  যেভাবে করা হচ্ছে ছয় মাসের বেশি টেকসই হবেনা’।কাওরাইদ ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক আজিজ  জানান, আমি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বারদের বলে দিবো যেনো তারা দুর্নীতি করতে না পারে এবং ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা বলবো যেন রাস্তাটি ভালোভাবে সম্পন্ন করে।
তিন নম্বর খোয়া ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার প্রসঙ্গে শ্রীপুর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মাসুদুল ইসলাম জানান,কিছুদিন আগে রাস্তাটির কিছু জায়গায় নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করেছিল, নিম্নমানের সামগ্রী কিছুটা ব্যবহার করেছে, একবারেই যে করেনি তা নয়, আমরা বলার পর ভালো মানের সামগ্রী দিয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির এই রাস্তায় কোনও লাভ হবেনা।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!