
মোঃ শরিফ উদ্দিন, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: শেরপুরে মুর্শিদপুর দরবার শরীফে পীরের ভক্তরা দরবার শরীফ দখলে নেওয়ার চেষ্টা করার পর এনিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দরবার শরীফে যাওয়ার মুলসড়ক শেড়ীপাড়ায় বেরিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেয় এলাকাবাসী। উভয়পক্ষের মারমুখী আচরণের কারণে সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।
শেরপুর সদরের মুরশিদপুর দরবার শরীফে হামলা-ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালিয়ে করে দরবার গুড়িয়ে দেয় এলাকাবাসী। পরে আজ সকাল থেকে পীরের ভক্তরা দরবার শরীফ দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এঘটনার পর সুন্নতি তরিকত পন্থীরা লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করে। প্রতিরোধের ঘোষনা দেয় এলাকাবাসী। এ নিয়ে দূপক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে এ লংমার্চ কর্মসূচি স্থগিত করে তরিকত পন্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও আনসার পুরো এলাকা করডোন করে রেখেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে যেকোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনি, এমনটাই জানালেন ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবির পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম।
মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছেন। আমরা সে লক্ষেই কাজ করছি। দেশের যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা কাজ করি। এ এলাকার লোকজনের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, তারা আমাদেরকে কথা দিয়েছেন পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রাখতে ওনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন।
উল্লেখ্য, একদল এলাকাবাসী গত ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার ভোরে শেরপুর সদর উপজেলার লছমনপুর মুরশিদপুর খাজা বদরুদ্দোজা হায়দার ওরফে দোজা পীরের দরবারে হামলা চালায়। এসময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়। আহতদের শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে দরবার বিরোধী হাফেজ উদ্দিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানেই সে গতকাল ২৭ নভেম্বর সকালে মারা যায়। এরপর থেকে সারা জেলায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নিহত হাফেজ উদ্দিনের নামাজে জানাজার আগে গতকাল বেলা এগারোটা থেকে ব্যাপক ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয় দরবার শরীফে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই মুর্শিদপুর দরবার শরীফের কার্যক্রম বন্ধের হুমকি দিয়ে আসছিলেন সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের জামতলা এলাকার ফারাজিয়া আল আরাবিয়া ক্বওমী মাদ্রাসার সুপার মো. তরিকুল ইসলামসহ স্থানীয়রা। এরই জেরে গত ২৬ নভেম্বর হামলার ঘটনা ঘটে।