প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ১:০২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ২৮, ২০২৪, ৪:১৭ অপরাহ্ণ
সোনাইমুড়ী পৌরসভায় ঘুষ ছাড়া মেলেনা লাইসেন্স

গোলজার হানিফ (প্রতিনিধি):প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক জসিমউদ্দীন একই দপ্তরে রয়েছেন দীর্ঘ ১৫ বছর থেকে। পার্শ্ববর্তী সেনবাগ উপজেলার স্থানীয় হওয়ায় তিনি গড়ে তুলেছেন নিজস্ব সিন্ডিকেট। পৌরসভার লাইসেন্স শাখাকে রুপান্তর করেছেন ঘুষ বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে। তার বিরুদ্ধে নতুন লাইসেন্স প্রদান ও লাইসেন্স নবায়নে ঘুষ গ্রহণ, আয়করের নামে অর্থ আদায়সহ উৎকোচের বিনিময়ে ভুয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রদানের অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায় , জসিমউদ্দীন সকল ব্যবসায়ীদের থেকে লাইসেন্সের প্রকার ভেদে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা অতিরিক্ত নিচ্ছেন। ঘুষের বিনিময়ে তদন্ত ছাড়াই কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে দিচ্ছেন লাইসেন্স। নতুন লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়নে আয়করের অযুহাতে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন। আয়করের নামে অর্থ আদায় করলেও তার কোন মানি রিসিট দিচ্ছেননা ভোক্তাদের।
সোনাইমুড়ী বাজারে প্রায় ৩০০ ফুটপাতের ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে লাইসেন্স দিয়েছেন পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক জসিমউদ্দীন। পৌর এলাকার নির্মাণ সামগ্রী বিক্রেতা ৮-১০ জন রয়েছেন কিন্তু এই বাজারে নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসায়ী হিসেবে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে ১৮ থেকে ২০ জনকে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের পৌরসভায় লাইসেন্সে নবায়নে ফি নেওয়া হতো ৩০০ টাকা, ভ্যাট নেওয়া হতো ৪৫ টাকা ও আয়কর নেওয়া হতো ১০০ টাকা। বর্তমানে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে পৌরসভার ডেন্টাল ক্লিনিকের ট্রেড লাইসেন্সের নবায়ন ফি নেওয়া হচ্ছে ১৫০০ টাকা করে। ভ্যাট নেওয়া হচ্ছে ২২৫ টাকা। এছাড়া আয়কর হিসেবে নেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা। খুচরা তেল বিক্রেতার লাইসেন্স নবায়নে ১ হাজার, ভ্যাট ১৫০ ও আয়কর নেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা। ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রীর খুচরা বিক্রেতার লাইসেন্স নবায়নে ২ হাজার, ভ্যাট ৩০০ ও আয়কর বাবদ ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ওষুধ ফার্মেসী থেকে লাইসেন্স নবায়নে ১ হাজার, ভ্যাট ১৫০ ও আয়কর বাবদ ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
লাইসেন্সের প্রকারভেদে নবায়ন ও ভ্যাটের টাকার পরিমানে তারতম্য হলেও আয়করের টাকার পরিমাণে তারতম্য হচ্ছে না। সকল লাইসেন্স ধারীদের থেকেই আয়করের নামে ৫০০ টাকা আদাই করা হচ্ছে। তবে আয়করের অযুহাতে টাকা নিলেও কোন রিসিট দেওয়া হচ্ছেনা বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।
সোনাইমুড়ী হাইস্কুল রোডের লিয়ন ট্রেডার্সের ব্যবসায়ী মোঃ সাহাব উদ্দিন জানান, ২০২৫ সাল পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়নের জন্য পৌরসভায় এক হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। আর আয়করের জন্য দিতে হয়েছে ৫০০ টাকা। এছাড়া কর্মকর্তাকে চা-পানি বাবদ আলাদা ভাবে টাকা দিয়েছেন তিনি। তবে আয়করের জন্য টাকা দিলেও কোন রিসিট তাকে দেওয়া হয়নি পৌরসভা থেকে।
একই রোডের হোমিও, ডেন্টাল ও ফার্মেসী ব্যবসায়ীরা জানান, পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক জসিমউদ্দীন তাদের থেকে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের সময় রিসিট ছাড়া টাকা নেন। অতিরিক্ত টাকা না দিলে নানা ভাবে হয়রানি করা হয়। আয়করের টাকা জেলার আয়কর অফিসে দিতে হয়। তবে পৌরসভা থেকে ৫০০ টাকা কিসের জন্য নেওয়া হয় তার কোন সদুত্তর দিতে চাননা জসিমউদ্দীন।
সোনাইমুড়ী বাজারের ফল ব্যবসায়ী হানিফ ও কাজল মিয়া জানান, তারা ফুটপাতে ভাসমান দোকানদার। পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছেন ব্যংক থেকে লোন নেয়ার জন্য। দোকান না থাকায় চা-পানির জন্য ৫ হাজার টাকা দিয়ে লাইসেন্স নিয়েছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী জানান, ট্রেড লাইসেন্স দেখিয়ে বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া যায়। লাইসেন্স পরিদর্শককে টাকা দিলে কোন তদন্ত ছাড়াই যে কোন নামে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যায়। পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্সের তালিকা ধরে অনুসন্ধান করলে এমন অনেক কাগুজে প্রতিষ্ঠানের খোঁজ পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন ওই কর্মচারী।
এসকল অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে সদুত্তর দিতে পারেননি পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক জসিমউদ্দীন। তার কাছে পৌর এলাকায় ট্রেড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা চাইলেও গড়িমসি করেন তিনি। আয়কর বাবদ ৫০০ টাকা নিলেও মানি রিসিট না দেওয়ার কারন জানতে চাইলেও উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
সোনাইমুড়ী পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোশতাক আহম্মেদ জানান, লাইসেন্স পরিদর্শক জসিমউদ্দীন অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ তার কাছে নেই। তবে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.