হোম » প্রধান সংবাদ » আমতলীতে পুলিশের বাধা উপেক্ষা জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ।

আমতলীতে পুলিশের বাধা উপেক্ষা জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ।

বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলার খেকুয়ানী বাজারে আদালতের মামলাকে উপেক্ষা করে মঙ্গলবার বিরোধীয়  জমিতে ইউপি সদস্য মোঃ ইউসুফ মৃধা জমি দখল করে জোড়পূর্বক ঘর নিমার্ণ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন অভিযোগ করেন মামলার বাদী শানু আকন। খবর পেয়ে আমতলী খানা পুলিশ জমিতে ঘর তোলার বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু  ইউপি সদস্য পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে জোড়পূর্বক ঘর তুলছেন বলে জানান শানু আকন।
জানাগেছে, উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়ানী গ্রামের মৃত্যু আশের্বদ আলী আকনের পঁাচ একর দশ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমির সঠিকমত বন্ঠন হয়নি মর্মে অভিযোগ এনে আশের্বদ আকনের ভাইয়ের ছেলে শানু আকন ২০১৩ সালে ২৯ জনকে বিবাদী করে বরগুনা দেওয়ানী আদালতে মামলা করেন। আদালত শানু আকনের তার পক্ষে রায় দেয়। এদিকে ইউসুফ মৃধা ওই মামলার রায়কে চ্যালেঞ্চ করে আপিল করেন। বর্তমানে ওই মামলাটি বরগুনা দেওয়ানী আদালতে চলমান রয়েছে। মঙ্গলবার আদালতে চলমান মামলাকে উপেক্ষা করে ওই বিরোধীয় জমিতে ইউপি সদস্য মোঃ ইউসুফ মৃধা তার লোকজন নিয়ে জোড়পূর্বক ঘর নিমার্ণ করছে। খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু তারা পুলিশের বাঁধাকে উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান শানু আকন। এ জমি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে গত সাত বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, এই জমি নিয়ে শানু আকন ও ইউপি সদস্য ইউসুফ মৃধার সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই জমি নিয়ে কয়েকদফা শালিস বৈঠক হয়েছে কিন্তু কোন নিরসন হচ্ছে না। ছালাম আকন বলেন, আদালতে জমি নিয়ে চলমান মামলা উপেক্ষা করে ইউপি সদস্য ইউসুফ মৃধা তার প্রভাব খাটিয়ে ও তার লোকজন নিয়ে জমিতে ঘর তুলছেন।  মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইউপি সদস্য ইউসুফ মৃধা ও তার ভাই মনির মৃধা দাড়িয়ে থেকে ঘর নিমার্ণ কাজের তদারকি করছে। ১০-১২ জন লোকে ঘরের কাজ করছে।
শানু আকন অভিযোগ করে বলেন ইউপি সদস্য ইউসুুফ মৃধা প্রভাব খাটিয়ে আদালতের মামলাকে উপেক্ষা করে জোড়পূর্বক জমিতে ঘর নিমার্ণ করছে। তিনি আরো বলেন, গত সাত বছর ধরে ইউপি সদস্যের সাথে আমাদের বিরোধ চলে আসছে। এ জমি নিয়ে আমার পরিবারের লোকজনকে কয়েক দফায় মারধর করেছে ইউপি সদস্যেও লোকজন। আমার পক্ষে আদালত রায় দিলেও তারা সেই রায়কে মানছেন না।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মোঃ ইউসুফ মৃধা ও তার ভাই মনির মৃধা জমিতে ঘর তোলার কথা স্বীকার করে বলেন, আমাদের বাবা আমজেদ মৃধা হাজেরা খাতুনের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছে। ওই জমিতে আমরা ঘর তুলেছি। তিনি আরো বলেন, ওই জমিতে মামলা রয়েছে কিন্তু মামলায় জমিতে ঘর উত্তোলন করতে কোন বাধা নিষেধ নেই। শানুর পক্ষের লোকজন ঘর তুলছে তাই আমিও তুলছি।
আমতলী থানার ওসি মোঃ আবুল বাশার আদালতে ওই জমি নিয়ে মামলার কথা স্বীকার করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে জমিতে ঘর তোলার কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!