
গোলজার হানিফ : আওয়ামী লীগকে কোন পর্যায়ে কোথাও ঠাঁই দেওয়া হবে না। কোন নির্বাচনে তাদের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নোয়াখালী জেলা শাখার সেক্রেটারী মাওলানা বোরহান উদ্দিন। শুক্রবার সোনাইমুড়ীর নাটেশ্বর আবুল খায়ের উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলন তিনি একথা বলেন।
আওয়ামী লীগের শাসন আমলের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরে দেশকে তলাবিহীন ঝুঁড়িতে পরিনত করেছে আওয়ামী লীগ। তারা মানুষের কথা বলার অধিকারকে হরণ করেছিলো। রাতের ভোট, ড্যামি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাতে চেয়েছিলো। তারা আয়না ঘর প্রতিষ্ঠা করে মানুষদের ওপরে নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছে। তাদের ছাত্র সংগঠন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে অস্ত্রের কারখানায় রুপান্তর করেছিলো। তারা মেয়েদেরকে ধর্ষণ করে সেঞ্চুরি উৎসব করতো। আ.লীগ ব্যাংক লুটপাট করে জনগণের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। তাদের মন্ত্রী-এমপিরা বিদেশে বাড়ী করেছে। এখন মানুষ ব্যাংকে গেলে টাকা পায়না। তারা সাইদী সাহেবকে চিকিৎসার নামে ইনজেকশন প্রয়োগ করে হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগকে কোথাও ঠাই দেওয়া হবে না।
জামায়াতের উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, জামাতের টার্গেট আল্লাহর জমিনে আল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠা করা। সারা দেশে বৈষম্য রয়েছে। ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে হলে কোরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাহলেই সকল সমস্যার সমাধান হবে।
সভায় প্রধান অতিথির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আহমদ। বক্তব্যে তিনি বলেন, যারা এখনো আওয়ামী স্বৈরাচারদের সহায়তা করছেন, নির্বাচনে তাদের সুযোগ দেওয়ার তাবেদারী করছেন তাদের জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে। যারা ১৭ বছর সাধারণ মানুষদেরকে জালেমদের হাতে ছেড়ে দিয়েছিলো। এখন তারা সেই জালেমদের এমপি-মন্ত্রীদের সেল্টার দিয়ে বাণিজ্য করছে।
এসময় তিনি সড়কে চাঁদাবাজির বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি প্রশাসন চাঁদাবাজদের নিবৃত্ত না করতে পারে বন্ধ না করতে পারে তাহলে ছাত্রসমাজ-জনগণ আবার জেগে এটা বন্ধ করবে। আমরা দেখেছি একমাস-দেড়মাস-দুইমাস পর্যন্ত সিএনজি এবং অটোরিক্সা থেকে চাঁদা তোলা হতো না। কিন্তু আবার কাদের সহযোগীতায়, কাদের পরামর্শে শুরু হলো প্রশাসনকে তার জবাবদিহি করতে হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজধানীর মারকাযুল নাহদাতিল উম্মাহ আল ইসলামিয়ার চেয়ারম্যান ড. মাওলানা মোহাম্মদ ছালমান। তিনি বলেন, দলের মিছিলের সমর্থন নিয়ে যাদেরকে আমরা থানাও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দলের নেতা বানিয়ে রেখেছি তারা পতিত সরকারের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দলের সেই এমপি-মন্ত্রীদের সেল্টার দিচ্ছেন। কোটি-কোটি টাকার বাণিজ্য করছেন আমাদের ওই তথাকথিত নেতারা। জেলার নেতারা জেলা পর্যায়ে, থানা নেতারা থানা পর্যায়ে আর কেন্দ্রের নেতারা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বাণিজ্য করছে।। ফ্যাসিস্ট সরকারের ওই নেতাদেরকে, ওই খুনীদেরকে তাদের বাসা বাড়ীতে অন্দর মহলে আশ্রয় দিয়ে কোটিকোটি টাকার বিনিময়ে ব্যবসা বাণিজ্য করছেন। ওরাই কিছুদিন পরে আমাদের সামনে ভোট চাইতে আসবেন। জনগণের মেনডেন্ট নিয়ে জনগণকে নিয়ে আর যাতে কেউ ব্যবসা করতে না পারে। এই ব্যাপারে যদি আমরা সতর্ক না হই তাহলে এই জাতির কপালে আবার দুঃখ আছে, দুঃখ আসবে।
নাটেশ্বর ইউনিয়ন জামাতের রাজনৈতিক সভাপতি আবুল কাশেম শামসুদ্দীনের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা মজলিসের শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য আমীর এবং চাষিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ মোল্লা, সোনাইমুড়ী উপজেলার নায়েবে আমীর রহীম উল্লাহ, উপজেলার ওলামা বিভাগের শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য সভাপতি মাওলানা নাইম উদ্দিন, সেনবাগ উপজেলা আমীর মাওলানা ইয়াছিন করিম, সোনাইমুড়ী উপজেলা সেক্রেটারী মাওলানা আব্দুল্লাহ বাকের, নাটেশ্বর ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবু শাকের প্রমুখ।
অতিথিদের বক্তব্য শেষে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত সকলের রুহের মাগফেরাত ও অসুস্থদের সুস্থতার উদ্দেশ্যে দোয়া-মোনাজাত করা হয়। সম্মেলনে উপজেলার কয়েক হাজার জামায়াত ও শিবিরের কর্মী সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল