প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ৫:২৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ১০, ২০২৪, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
নওগাঁয় সবাই মিলে তুলশীগঙ্গা নদীর কচুরিপানা অপসারণ শুরু।

জাহিদুল হক মিন্টু,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: তুলশীগঙ্গা নদীর কচুরিপানা স্বেচ্ছাশ্রমে অপসারণ শুরু হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ১০টায় শহরের রজাকপুর এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আউয়াল। জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে সারা দেশের প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি জলাশয় কিংবা খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার সরকারি ঘোষণার অংশ হিসেবে নওগাঁয় তিনটি স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
নওগাঁ সদর উপজেলার ভবানীপুর থেকে রাণীনগর উপজেলার চক-কতুব পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার নদীর যেসব স্থানে কচুরিপানা জমে রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে অপসারণ করবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা। ওই তিনটি সংগঠন হচ্ছে, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন নওগাঁ জেলা শাখা, ওয়াইএসএফ ও স্কাউট নওগাঁ শাখা। এছাড়া এই কার্যক্রম যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, নওগাঁ পৌরসভা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জেলা কার্যালয় থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে পুলিশ সুপার কুতুব উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহেল রানা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রবীন শিষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুর রহমান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জাবেদ ইকবাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তুলশীগঙ্গা নদী বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলা থেকে উৎপত্তি হয়েছে। নদীটি জয়পুরহাট জেলা হয়ে নওগাঁ শহরের ভেতর দিয়ে জেলার রাণীনগর উপজেলার চক-কতুব স্থানে ছোট যমুনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। বছর দুয়েক আগে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করে নদীটি পুনঃখনন করা হয়। কিন্তু এর মধ্যেই নদীটির অধিকাংশ অংশে কুচুরিপানা জমে পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। মৃতপ্রায় নদীটিতে প্রাণ ফেরাতে প্রশাসনের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেমেছে।
বিডি ক্লিন নওগাঁ শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি জলাশয় পরিষ্কার করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। বিডি ক্লিন নওগাঁর কর্মীরা সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে আজ থেকে তুলশীগঙ্গা নদীর কচুরিপানা অপসারণ করার কাজ শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রমে ওয়াইএসএফ ও স্কাউটের সদস্যরাও হাত মিলিয়েছেন। সবার সহযোগিতায় আশা করছি, তুলশীগঙ্গা নদী আবারও তাঁর প্রাণ ফিরে পাবে। পুরো নভেম্বর মাস জুড়ে এই কার্যক্রম চলবে।
কুচুরিপানা নওগাঁতে মহামারির আকার ধারণ করেছে, উত্তর বঙ্গের শস্যক্ষেত্র হিসেবে খ্যাত নওগাঁজেলা বিশেষ করে ইরি মৌসমে কৃষকের গলার কাঁটা হিসেবে বেঁধে গেছে এই কচুরিপানা, ভুক্তভোগী কৃষক মাসুদ রানা বলেন, কৃষিতে এমনিতেই আমরা লোকসানে থাকি, তার উপর আবার গত কয়েক বছর থেকে যোগ হয়েছে কচুরিপানা, এক বিঘা জমির জন্য ৪/৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত লেবার ব্যায় হচ্ছে, তাতে আমাদের লসের পরিমাণ বেড়েই চলেছে, সরকার দ্রুত একটা প্রকল্প তৈরী করে এগুলো ধ্বংস না করলে কৃষকেরা ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে, দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিবে, এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের সাথে মুটোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, দেখুন এগুলো সরকারের কোন প্রক্লপ নেই, সেচ্ছাসেবি সংগঠনের মাধ্যমে পরিষ্কার করা হচ্ছে তবে যদী কোন এলাকার কৃষক আমাদের কে অবগত করে তা হলে তাদের জন্য আমরা যথা সাধ্য চেষ্টা করবো, কৃষি জমি পরিষ্কারের তাদের জমি পরিষ্কার করতে পারলে ভালয় হতো যেহেতু তারা আমাদের খাদ্যের যোগান দেন।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.