
হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : প্রতি বছর শীত মৌসুম শুরুতে সিরাজগঞ্জের চলনবিলে নাম না জানা রংবেরঙের অনেক পাখি নদী, বিল, জলাশয় ও পুকুরে ভরে যায় এসব পাখিতে। এই পাখিদের আমরা আদর করে বলি অতিথি পাখি। যেহেতু শীত মৌসুমে এই পাখিরা আসে তাই এদের পরিযায়ী পাখিও বলা যায়। জীবন বাঁচাতে এই পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে চলনবিলে।
এদিকে, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের নূন্যতম প্রয়োগ না থাকায় চলনবিলে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের কারেন্ট জাল ও ফাঁদ দিয়ে শিকারিরা অবাধে অতিথি পাখি নিধন করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের মৎস্য ভাণ্ডার খ্যাত চলনবিলের তাড়াশ উপজেলার দিঘীসগুনা গ্রামের দিঘী বাজার ও সগুনা ইউনিয়নের কুন্দইল গ্রামের বাজারে রীতিমত পাখির বাজার বসে। পাখি শিকারীরা সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাখি শিকার করে। পরে ভোরে পাখিগুলো বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসে। একই সঙ্গে বারুহাস ইউনিয়নের বস্তুল বাজার ও পঁওতা বাজারে অতিথি পাখিসহ বিভিন্ন ধরনে শতশত বক বিক্রি করা হচ্ছে।
তাড়াশ ডিগ্রি কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের (প্রভাষক) মর্জিনা ইসলাম বলেন, বর্তমানে চলনবিলাঞ্চলের নদী, খাল-বিল ও পুকুরে পানি কমতে শুরু করেছে। এসময় পুঁটি, খলসে ও দারকিনাসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট মাছ ও পাকা মাকড় পাওয়া দেখা দিয়েছে। একারণে অতিথি পাখিরা খাবারের লোভে অপেক্ষাকৃত শীত থেকে বাঁচতে শামুকখোল, বালিহাঁস, হরিয়াল, বুনো হাঁস, ছোট সারস পাখি, বড় সারস পাখি, নিশাচর, ডুবুরি পাখি, কাদাখোঁচা, রাজসরালি, পাতিকুট, রামঘুঘুসহ নানা প্রজাতির অতিথি পাখি আশ্রয় নেয় চলনবিলে। এই পাখিগুলো অসাধু শিকারীরা ফাঁদ পেতে অবাধে পাখি শিকার করছেন।
চলনবিল রক্ষা আন্দোলন কমিটির তাড়াশ উপজেলা শাখার (আহবায়ক) আব্দুর রাজ্জাক রাজু বলেন, শিকারিদের কাছ থেকে পাখি কিনে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেয় অন্যদের দেখানোর জন্য। এতে বুঝা যায় পাখি শিকার করা দন্ডনীয় যে অপরাধ, তা নিয়ে শিকারি বা ক্রেতাদের এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র ভীতি নাই। চলনবিলের পাখি বাঁচাতে আইন প্রয়োগের পাশাপশি লোকজনের মধ্যে ব্যাপক হারে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে। তাহলে এই অঞ্চল থেকে পাখি শিকার বন্ধ হবে।
উপজেলা বন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, শীতের আমেজ শুরু হওয়ায় বিভিন্ন জাতের পাখি আসছে। এই পাখিগুলো রাতের আধারে অসাধু কিছু শিকারীরা বেশিরভাগ শিকার করছে। এই বিশাল চনবিলের মধ্যে তাদের খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তবে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে অসাধু পাখি শিকারীদের খোঁজ খবর নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুইচিং মং মারমা বলেন, পাখি শিকারিদের অবস্থান জানা গেলে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজনে যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে পাখি শিকারিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুন
‘বাড়ি জামালপুরে’—এটুকুই মনে আছে; পরিচয়হীন অসহায় নারী খুঁজছেন স্বজনদের
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার