হোম » প্রধান সংবাদ » শীতের কুয়াশায় ভৈরবে বেড়েছে ছিনতাই ও ডাকাতি

শীতের কুয়াশায় ভৈরবে বেড়েছে ছিনতাই ও ডাকাতি

এম আর ওয়াসিম, ভৈরব(কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রাতের অন্ধকার ও  ভোরে শীতের কোয়াশায় একের পর এক ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। ফলে গেল দু’সপ্তাহে ২০ জনের বেশি লোক ছিনতাই ও ডাকাতির কবলে পড়েছেন। আর সাথে থাকা নগদ টাকা বা দামী মোবাইল ফোন দিতে সামান্য দেরি  করলেই এলোপাথারি ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করছে লোকজনকে। এই চিত্র ভৈরব শহরের অলি-গলিসহ আঞ্চলিক সড়কগুলোর। ভূক্তভোগীদের দাবী, একের পর এক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় মানুষের রক্ত ঝড়লেও ধরা ছোয়ার বাইরে অপরাধীরা। ফলে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে তারা।

জানাগেছে, সিলেট থেকে গত শনিবার ভোরে শহরের চন্ডিবের এলাকার ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন ব্যবসায়ী নরুল ইসলাম ওরফে নুরু মিয়া। ৬ সন্তানের জনক নুরু মিয়ার গ্রামের বাড়ি উপজেলার বাশঁগাড়ী গ্রামের। তিনি পৌনে ৬ টার দিকে শহরের গাছতলা ঘাটের ভাঙ্গা ব্রিজ এলাকা অতিক্রম করে স’মিলের কাছে এলে তাকে কয়েকজন যুবক ঘিরে ফেলে। একই সঙ্গে পকেটে থাকা নগদ ৯ হাজারের অধিক টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। পরে মোবাইল ফোন দিতে দেরি করলে নুরু মিয়াকে এলোপাথারি ছুরিকাঘাত করে ডাকাতরা। পরে তিনি মাটিতে লুটে পড়েন। পরে স্থানীয়রা খবর পেয়ে গুরুতর  আহত নুরু মিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। শুধু তাই নয়, গেল ৩’দিন আগে টানা ৪দিন একই স্থানে একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এতে ৯ জনের মতো ব্যক্তিকে গতিরোধ করে নগদ টাকাসহ দাবী মোবাইলে ফোন ছিনিয়ে নেয়। এসময় ৩ জনকে ছুরিকাঘাত করে আহত করে ডাকাতরা।

এছাড়াও গত ৫ দিন আগে শহরের দড়ি চন্ডিবের এলাকায় রাত ১২ টারদিকে সিএনজি চালিত অটো রিকসা আটকে ২০ হাজার টাকা ও কয়েকটি দাবী মোবাইল হাতিয়ে নেয় ডাকাতরা। আর গেল ৯দিন আগে মধ্যেরচর আলগা বাড়ি সড়কের অর্থ্যাৎ ৩ রাস্তার মোড়ে নামে সোহরাব এক যুবককে আটকে কুপিয়ে আহত করে। এসময় তার ডান হাতের তিনটি আঙ্গুলের রগ কেটে যায় দাবী সোহরাবের স¡জনদের। তার অপরাধ সে কয়েকজন যুবক নিয়ে বৈদ্যুতিক লাইটের আলোতে ব্যাডমিন্টন খেলা করে। এতে ডাকাতদের ডাকাতির করতে সমস্যা হয়।

তাছাড়াও গেল পহেলা ডিসেম্বর উপজেলার কালিকাপ্রসাদের গাজিরটেক এলাকায় এক ব্যক্তিকে এলাপাতারি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্থানীয়রা জানায়, প্রতিনিয়ত উপজেলার গাজিরটেক, মধ্যেরচর ও গোছামারসহ পৌর শহরের চন্ডিবের গাছতলা ঘাট, স্টেডিয়াম সড়ক, দড়ি চন্ডিবের এলাকার বেশ কয়েকটি স্থানে ছিনতাই এবং ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। ফলে মানুষজন রাতের অন্ধকার আর ভোরে শীতের কোয়াশায় আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছে।

চন্ডিবের এলাকার দোকানদার আমিনুল ইসলাম মিয়া জানায়, গেল এক সপ্তাহে গাছতলা ঘাটের সেতু এবং স’মিলের কাছে বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে ৪জন ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে। এছাড়াও মৌলভী বশির মিয়া নামে গাছতলা ঘাট এলাকার এক মসজিদের মোয়াজ্জিন জানান, তিনি মেয়েদের পড়াশুনার কারণে চন্ডিবের এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে। ফলে প্রতিদিন ভোরে ফজরের আজান দিতে মসজিদের যেতে হয়। ফলে তিনি বেশ কয়েক দিন ডাকাতের কবলে পড়েছেন। একদিন তার পেটে ছুরি টেকিয়ে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। ফলে কয়েক দিন ধরে তিনি রাতে বাসায় ফেরেন না। আর বাসায় এলেও আবার মসজিদে যেতে সাহস পান না।

এদিকে গেল দু’সপ্তাহে ১০ জনের বেশি লোক ছিনতাই ও ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন বলে নিশ্চিত করেন ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহমেদ। তিনি আরও বলেন, আহতের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে চন্ডিবের এলাকার বাসিন্দা ও ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী মোমেন মিয়া জানান, ডাকাতি ও ছিনতাই বন্ধে চিহ্নিতদের ধরিয়ে দিলেও প্রভাবশালীদের তদবিরে তারা ছাড়া পেয়ে যায়। আর একের পর এক ডাকাতি হলেও অপরাধীরা কেন ধরা ছোয়ার বাইরে এই নিয়ে চিন্তিত কমলপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ৭ নং ওয়ার্ড  কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী সোহাগ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভৈরব থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীন মুঠোফোন এ প্রতিবেদককে জানান, এসব ঘটনায় এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। তাছাড়া আজকে ভোরে একজন ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন বলে শুনেছেন তিনি। তবে, এ ঘটনায়ও কেউ অভিযোগ করেনি। তিনি আরও বলেন, গভীর রাতে কিংবা ভোরে যেসব লোকজন চলাচল করবে, তারা যেনো অবশ্য পুলিশের সহযোগিতা নেয়। এছাড়াও রাতে পুলিশের ৮টি টিম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়োজিত থাকে, যা আগে ছিল না।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!