
যমুনা বিধৌত সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চল জুড়ে এখন চোখে পড়ার মতো ছনপাতার সবুজ রং। চরাঞ্চল জুড়ে হেমন্তের বাতাসে দুলছে ছনক্ষেত। ছনপাতার কাশফুল ঝরে যেতে শুরু করলেও এ দৃশ্য নজর কেড়ে নেয়। এ আনন্দের সাথে তাল মিলিয়ে প্রান্তিক কৃষকেরা এ ছন সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছে।
চরাঞ্চলে এখন ওপরে হেমন্তের আকাশে সাদা সাদা মেঘ, আর নিচে হাওয়ায় দুলছে ছনক্ষেত। এই ছনক্ষেতের সবুজ ধীরে ধীরে বিবর্ণ হয়ে সোনালী রং ধরতে শুরু করেছে। চরাঞ্চলের কয়েক হাজার প্রান্তিক কৃষক এই ছন সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। বন্যার পানি নেমে যাবার কিছুদিন পর ছনগুলো যখন এক থেকে দেড়ফুট লম্বা হয় তখন থেকেই কৃষকেরা তা সংগ্রহ করে পশুখাদ্য হিসেবে বাজারে বিক্রি শুরু করেছে।
চরের কিশোর, কিশোরী, ছেলে, বুড়ো, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা সবাই কমবেশি নিজেদের প্রয়োজনে ছন বা কাইশাগুলো কেটে গরুকে খাওয়ায়। বাজারেও এর বেশ চাহিদা রয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে ছনগুলো। একসময় তাতে ফুল আসে। তখন পুরো চরকে মনে হয় শরতের একখন্ড সাদা আকাশ। এরপর থেকে চরবাসী সোনালী রং ধারণ করা ছনক্ষেতে ব্যস্ত সময় পার করেন। নিজেদের ছোট ছোট নৌকাগুলোকে ঘাটে বেঁধে তারা ছন কাটতে ক্ষেতের মধ্যে ঢোকেন। কাইশা কেটে আঁটি বেঁধে দিনশেষে সেগুলো মাথায় করে বা ঘোড়ার গাড়িতে করে বয়ে নদীর ঘাটে নিয়ে আসে। পরে নৌকায় তুলে যমুনার পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফেরে। এক সপ্তাহ শুকানোর পরে স্থানীয় হাট বাজারে বিক্রি জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এছাড়া শাহজাদপুর, বেলকুচি ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এ ছন বিক্রি করে বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে।
ছন কাটায় জড়িত স্থানীয়রা বলছেন, ছনগুলো একটু বড় হলে কেটে নিয়ে বাজারে বিক্রি করি এবং কাঁচা অবস্থায় গরুকে খাওয়ানো হয়। ফুল ঝড়ার পর ছন কেটে শুকিয়ে শাপটা, ঘরের চালা তৈরির জন্য বাজারে বিক্রি করি। চরাঞ্চলের অনেক বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা মহিলা ও ভূমিহীন ছিন্নমূল মানুষের কাইশা বিক্রির টাকায় জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এমনকি এটি তারা কর্মসংস্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে। কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, যমুনার জেগে ওঠা চরে বছরের প্রায় অর্ধেক সময় ছন সংগ্রহ ও বিক্রি করে প্রান্তিক কৃষকসহ বহু গরিব ও অসহায় মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।চরাঞ্চলের ছনবাগান থেকে নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র তৈরির ব্যবস্থা করাও সম্ভব। এতে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
-হুমায়ুন কবির সুমন-