হোম » প্রধান সংবাদ » ভৈরবে লাখ টাকার বিনিময়ে চিহ্নিত  মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দিয়েছে  পুলিশ।

ভৈরবে লাখ টাকার বিনিময়ে চিহ্নিত  মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দিয়েছে  পুলিশ।

এম আর ওয়াসিম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: পুলিশের বিশেষ অভিযানের নামে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে লাখ টাকার বিনিময়ে চিহ্নিত দুই মাদক বিক্রেতাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভৈরব শহর ফাড়িঁর ইনচার্জ মোঃ সেলিম এর বিরুদ্ধেযেখানে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে সরকার, সেখানে ভৈরব শহর ফাড়িঁ ইনচার্জের এমন কর্মকান্ডে রীতিমত আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে ভৈরবের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে।খোজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে বারটার সময় শহরের পঞ্চবটি পুকুরপাড় এলাকার মাদকের আড়ৎধার ও একাধীক মাদক মামলার আসামী মাইগ্যা আলমের বাড়িতে ভৈরব শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ সেলিম ও এটি এস আই আরিফসহ সঙ্গিয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালায়।

এসময় আলমের বাড়িতে আলম ও আরেক চিহ্নিত মাদক কারবারি সুমীসহ ফারুক(৩০), আলাদিন(১৯), আলিফ (২২) ও রোকন (২০) নামে আরো চারজনকে আটক করা হয়। তবে আটকৃত সুমী এবং আলমের দেহ তল্লাশী করে কোনো প্রকার মাদকদ্রব্য পায়নি পুলিশ। এসময় মাদক না পেয়েও সুমী ও আলমকে নিয়ে যেতে চাইলে আটককৃত মাদক কারবারি ও পুলিশের মাঝে দরদাম চলতে থাকে। সুমী ও আলমকে ছেড়ে দেবে এবং আটকৃত অপর চার জনকে ৩৪ধারায় মামলা দেওয়া হবে এমন শর্তে একলাখ টাকা রফাদফায় রাজি হন শহর পুলিশ ফাড়িঁর ইনচার্জ মোঃ সেলিম। পরে সুমী ও আলমকে ছেড়ে দিয়ে আটককৃত চারজনকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

কথামত এক লাখ টাকার মধ্যে সুমী ও আলমের কাছ থেকে রাতেই ৫০হাজার টাকা নগদ পরিশোধ করা হয়। আর বাকি টাকা আজ দুপুরে দেওয়ার কথা ছিল। ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ আটককৃত চারজনকে ৩৪ধারায় চালান না দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার প্রস্তুতি নেয় এমন খবর সুমি ওআলমের কাছে পৌছলে তারা শর্ত ভঙ্গের ক্ষোভে রফাদফার পুরো ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সুমি জানান, আমি ও আলমকে ছেড়ে দেওয়ার শর্তে ৫০হাজার ও গ্রেফতার হওয়া বাকি চারজনকে ৩৪ধারায় চালান দিতে আরো ৫০হাজার মোট ১লাখ টাকার চুক্তি করা হয় এবং রাতেই ৫০হাজার টাকা নিয়ে নেয় পুলিশ।

কিন্তু এখন কেন পুলিশ ঐ চারজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দিবে?অপর মাদক কারবারি মাইগ্যা আলম জানান, আমাদের কাছে কোনো মাদক পায়নি। তারপরেও আমরা যেহেতু আগে মাদক ব্যভসা করতাম তাই আমাদেরকে চালান দিবে বলে হুমকি দেয় পুলিশ। পরে আমাকে ও সুমি ছেড়ে দিতে নগদ ৫০হাজার টাকা নেয় পুলিশ এবং বাকি চারজনকে ৩৪ধারায় চালান দিতে আরো ৫০হাজার টাকা আজকে দুপুরে দেওয়ার কথা।এব্যাপারে ভৈরব শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ সেলিম এর কাছে জানতে চাইলে তিনিক্যামেরার সামনে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। এছাড়াও ভুল হয়ে গেছে, আর হবে না জানিয়ে শেষ সুযোগ চেয়ে উৎকোচ দিয়ে সাংবাদিকদের মেনেজ করার ব্যর্থ চেষ্টা করেন তিনি।

এবিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহিন জানান, টাকা নিয়ে আসামী ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে শহরফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সেলিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ৩৫ হাজার টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেছে। বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে। এব্যাপারে ওসি সেলিমের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত হবে বলে তিনি জানান।এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে আটককৃত চারজনকে সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট এর কার্যালয়ে নিয়ে আসা হলেও পুরো ঘটনাটি অবহিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা না করে আসামীদেরকে ভৈরব থানায় হস্থান্তর করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের পুরো প্রস্তুতি সম্পন্ন করার
পরেও কেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে ভৈরব উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা ও নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট লুবনা ফারজানা বলেন, পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামী আটক করেছে। তাই এবিষয়ে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিবে। থানা সূত্রে অবশেষে জানা যায় যে আটককৃত সেই চার জনকে আইনের ৩৪ দ্বারা মতে কিশোরগঞ্জ জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!