
অবৈধ সনদে দীর্ঘ এক যুগ ধরে চাকরি করছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পানাইল ইউনাইটেড একাডেমীর সহকারী গ্রন্থাগারিক সাবেরা খাতুন। দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটির সনদ দেখিয়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন এ পদে। তবে এ সনদের বৈধতা না থাকায় সাবেরা খাতুনের নিয়োগও অবৈধ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি সাবেরা খাতুনের বিরুদ্ধে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে যোগ দেন সাবেরা খাতুন। নিয়োগের সময় মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে দারুল ইহসানের লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্সে ডিপ্লোমার একটি সনদ ক্রয় করে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটিকে ম্যানেজ করে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে সাবেরা খাতুন উচ্চতর স্কেলের জন্য ২০১৫ সালের মার্চ মাসে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশন ছাড়া আরেকটি একবছর মেয়াদি দারুল ইহসানের সনদ ক্রয় করে উচ্চতর স্কেল প্রাপ্ত হন। অথচ শিক্ষক হাজিরা খাতায় ওই একবছর মেয়াদি কোর্সের সনদ অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠান থেকে একদিনের ছুটি ভোগ করেননি।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক স্মারক সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামোও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি এমপিওভুক্তি ও উচ্চতর আর্থিক সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ বিবেচনা করা যাবে না। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে গত ১ অক্টোবর ফরিদপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষ্ণু পদ ঘোষাল জেলার সব মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবগত করেছেন।
জানতে চাইলে সাবেরা খাতুন তার সনদটি বৈধ দাবি করে বলেন, প্রথমে আমি দারুল ইহসানের সাভার শাখার সনদ দাখিল করি। পরবর্তীতে উচ্চতর স্কেলের জন্য ধানমণ্ডি ক্যাম্পাস থেকে সনদ গ্রহণ করি। ধানমণ্ডির মূল ক্যাম্পাস থেকে সনদ গ্রহণ করার বৈধতা আছে।
সাবেরা খাতুনের সনদটি দারুল ইহসানের জানিয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে বিষয়টি নিয়ে আমাকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে সাবেরা খাতুনের সব কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দাখিল করেছি। তবে সাবেরা খাতুনের সদনটি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের।
এবিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে প্রতীয়মান হয়েছে ওই শিক্ষকের সদনটি দারুল ইহসানের। এখন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) আমাদের নিকট তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দিলে আমরা পাঠিয়ে দিবো।
-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি-