
নিভৃত পল্লী গ্রামের বাসিন্দা হেমায়েত হোসেন (৫৫)। দীর্ঘকাল প্রবাসে থাকার পর দেশে এসে নিজস্ব ৩০ শতক জমিতে গড়ে তুলেছিলেন নার্সারি। দিনবদলের স্বপ্নে রোপণ করছিলেন নানা প্রজাতির গাছের চারা। ধীরে ধীরে এ গাছগুলো বড় হয়ে ফল ধরার উপযোগী হয়েছিল। কোনো কোনো গাছে ফলও এসেছিল। এরই মধ্যে একদল দুর্বৃত্ত হানা দেয় এই নার্সারিতে। মুহূর্তে প্রায় তিন শতাধিক গাছ কেটে সাবার করে ফেলেছে তারা। চোখের নিমিষে চুরমার হয়ে গেছে হেমায়েতের সেই স্বপ্ন।
শনিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চরডাঙ্গা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, 'ফাহিম এগ্রো এন্ড নার্সারি' নামের ওই নার্সারির গাছ কাটার ভয়াবহ দৃশ্য। এসময় কাটা গাছ ধরে অঝরে কাঁদছিলেন নার্সারি মালিক হেমায়েত।
সরেজমিনে জানা যায়, ওই গ্রামের মৃত হাতেম শেখের ছেলে হেমায়েত হোসেন দীর্ঘকাল প্রবাসে থাকার পর ২০২১ সালে দেশে এসে পৈত্রিক সম্পত্তির ৩০ শতাংশ জমিতে বাণিজ্যিকভাবে নার্সারি স্থাপন করেন। কিন্তু গত ১৫ অক্টোবর ভোরে প্রতিদিনের ন্যায় নার্সারিতে এসে দেখতে পান রাতের অন্ধকারে একদল দুর্বৃত্ত তার নার্সারির মালটা, কমলা, বড়ই, আম, লিচু, থাই জাম্বুরাসহ ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির তিন শতাধিক গাছ কর্তন করে ফেলে রেখেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত নার্সারির মালিক হেমায়েত হোসেন বলেন আমার সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই। তবে আমার নার্সারির ভিতরে কিছু উন্মুক্ত জায়গা রয়েছে। ওই জায়গায় এলাকার কিছু যুবক হাডুডু খেলে। একারণে গত ১৪ অক্টোবর বিকালে নার্সারিতে একটি গেট নির্মাণ করি। আমার ধারণ, এ-কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই যুবকগুলো রাতের আঁধারে নার্সারিতে প্রবেশ করে আমার এ সর্বনাশ করেছে।
এদিকে এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নার্সারির মালিক হেমায়েত হোসেন প্রতিকার চেয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ হারুন-অর রশীদ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি-