
বরগুনার তালতলীতে একটি এতিমখানায় ভুয়া এতিম ও দুস্থ দেখিয়ে প্রতিবছর রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে স্থানীয় এতিম ব্যবসায়ীরা। সমাজসেবা অফিসের নিয়মিত তদারকি না থাকায় এবং তাদের যোগসাজশে রাষ্ট্রীয় কোষাগার খালি করার পাশাপাশি এতিমের অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই এতিমখানা মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার সামনে পুরাতন গরুর হাট এলাকায় অবস্থিত মদিনাতুল উলুম নূরানী হাফিজি মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোডিং এতিমখানায় কাগজে কলমে ৩৬ জন এতিম দেখালেও বাস্তবে মিলেনি তার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বরং এতিমখানার তালিকাভুক্ত শিক্ষার্থীরা ১ জন ব্যাতীত বাকিরা সকলেই অর্থ ব্যায় করে পড়াশোনা করে। এতিমখানার তালিকায় প্রবাসী, চাকুরীজীবি ও বিভিন্ন পেশায় কর্মরত লোকের সন্তানেরা রয়েছে। এছাড়াও অত্র প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রিয়াজের ছেলের নাম পাওয়া গেছে ওই তালিকায়। এমনকি তালিকা থেকে বাদ পড়েননি ওখানকার শিক্ষকও। অবিভাবকদের দাবি প্রতিমাসে ২-৩ হাজার টাকা দিয়ে ছেলে-মেয়েকে পড়াশোনা করান। ওই তালিকায় আরো অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে যারা বাড়ি থেকে পড়াশোনা করে এবং অর্থ দিয়ে পড়ে তাদেরকেও এতিমখানার তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এদিকে এঘটনা শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মাঝে জানাজানি হলে এনিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এবিষয়ে মদিনাতুল উলুম নূরানী হাফিজি মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোডিং এতিমখানার পরিচালক মোঃ রিয়াজ বলেন, ২-৩ জন এতিম আছে বাকিরা সবাই গড়িব। সমাজসেবা অফিসার সকলের তালিকা দিতে বলেছে তাই আমি তালিকা দিয়েছি ।
তালতলী উপজেলা সমাজসেবা অফিসার (অঃদাঃ) মানজুরুল হক কাওসার বলেন, এতিম ছাড়াও সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা আমাদের তালিকা ভুক্ত আছে৷ ক্যাপিটেশন গ্রান্ট ও মঞ্জুরী তালিকা ভুক্ত শিক্ষার্থীদের থেকে টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। যেসমস্ত প্রতিষ্ঠান ভূয়া ও অনিয়ম করে আমি সেগুলো বন্ধ করে দেব।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) অমিত দত্ত বলেন, আমি এ বিষয়টা জানি না আমাকে কেউ কখনো বলেনি। বিষয়টি দেখব।
-মাছুম বিল্লাহ জাফর-