
মন্দিরের ভিতরে শুভ্রতা ছড়াচ্ছে কাশবন। আছে ছোট পুকুর ও পানির নজরকাড়া ফোয়ারা। এই পুকুরের পাড়ে নির্মাণ করা হয়েছে সনাতন ধর্মের রামায়ণ, মহাভারত, শিবপুরান ও পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে দেবদেবীর ২৫১টি প্রতিমার প্রদর্শনী।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী হরি মন্দিরে চলছে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন। জেলার গন্ডি পেরিয়ে এই আয়োজনের কথা ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সকাল থেকে রাত অবধি উপচে পড়া ভিড় করছেন এ মণ্ডপ দেখতে। দর্শনার্থীদের কথা চিন্তা করে এ প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মূল সড়ক থেকে মন্দির পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার সড়কসহ আশপাশ এলাকাজুড়ে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। মন্দিরের যত কাছে যাওয়া যায় ভিড় তত বাড়তে থাকে। নির্ধারিত ফটক দিয়ে প্রবেশ করে ২৫১টি প্রতিমা দেখে বের হয়ে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। দর্শনার্থীদের অনেককেই দেবী দুর্গাসহ অন্যসব প্রতিমার সঙ্গে সেলফি তুলতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে শ্রী শ্রী হরি মন্দিরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরে খুশি ভক্ত ও দর্শনার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে এখানে সত্য, দ্বাপর, ত্রেতা ও কলি এই চারকালে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনে ভগবানের অংশ হিসেবে যে চারজন অবতার আবির্ভূত হয়েছেন (শ্রীহরি, শ্রীরামচন্দ্র, শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীগৌরাঙ্গ), তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে ৫২টি খণ্ডের মাধ্যমে। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী সত্যযুগে শ্রীহরির নিদ্রা, ত্রেতাযুগে রামচন্দ্রের বিয়ে, বনবাস, সীতাহরণ, দ্বাপরযুগে শ্রীকৃষ্ণের কংসের কারাগারে জন্ম, জন্মের পর নন্দালয়ে গমন, নৌকাবিলাস এবং কলিযুগে জগাই-মাধাইয়ের শিষ্য হওয়া, নগরকীর্তন প্রভৃতি কাহিনী নিয়ে তৈরী করা হয়েছে আরও ৫২ খণ্ড। এতে সব মিলিয়ে রয়েছে মোট ২৫১টি প্রতিমা। ভারত থেকে আগত প্রতিমা শিল্পী অনিল পালের আটজন সহযোগী নিয়ে প্রতিমাগুলো তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় সাড়ে তিনমাস। গত বছরও তিনি এখানে ২০১টি প্রতিমা তৈরি করেছিলেন। তবে এবার তিনি গত বছরের চেয়েও ৫০টি প্রতিমা বেশি তৈরি করেছেন।
নড়াইল থেকে আসা মিতালী রানী জানান, তিনি স্বপরিবারে এই ব্যতিক্রমী পূজা দেখতে এসেছেন। এমন আয়োজন তিনি এর আগে কোথাও দেখেননি। গোপালগঞ্জ থেকে আসা রতন সাহা জানান, তিনি তার এক বন্ধুর কাছ থেকে শুনে এই মণ্ডপ দেখতে ছুটে এসেছেন। প্রচণ্ড ভিড় ঠেলে অনেক কষ্টে তিনি মণ্ডপের ভেতরে প্রবেশ করেছেন। মাগুরা সদর থেকে আসা সুজন পাল জানান, তারা কয়েকজন বন্ধু মিলে ব্যতিক্রমী এই পূজা দেখতে এসেছেন। অন্যরকম অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা বাড়ি ফিরছেন।
শ্রী শ্রী হরি মন্দির কমিটির সভাপতি নিত্য গোপাল মণ্ডল জানান, বর্তমানে তরুণসমাজের একটি বড় অংশ ধর্ম বই খুব একটা পড়াশোনা করে না, অতীত জানে না। নানা ধরনের অন্যায় কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। ওই তরুণদের অতীত স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্যই এ আয়োজন। আমার ধারণা ও বিশ্বাস, এসব দেখে আজকের বিভ্রান্ত তরুণসমাজ সঠিক পথে ফিরে আসবে।
আলফাডাঙ্গা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও শ্রী শ্রী হরি মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, গত বছর অত্র অঞ্চলের মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তাই এবছর আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী আসছে। আশা করছি এ পূজা দেখতে প্রদর্শনীর ১০ দিনে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে লাখ লাখ দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সারমীন ইয়াছমীন বলেন, পূজা মণ্ডপ ও ভক্ত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্যরা কাজ করছেন। এছাড়াও পূজামণ্ডপ এলাকা যানজটমুক্ত রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।
-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি-

আরও পড়ুন
সিরাজগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান বাবু মিয়া ও রিজভীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা
সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় স্বামী-স্ত্রীসহ নিহত ৩
‘বাড়ি জামালপুরে’—এটুকুই মনে আছে; পরিচয়হীন অসহায় নারী খুঁজছেন স্বজনদের