
জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার প্রতারণার স্বীকার হয়েছেন চরগোপালপুর নয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল্লাহ৷ ১১ বছর যাবত তিনি একাধিক অভিযোগ ও বার বার রাজনৈতিক নেতাদের স্মরণা পন্ন হয়েও প্রতিকার না পেয়ে আবারো বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) জামালপুর জেলা বিএনপি বরাবর প্রতিকার চেয়ে আবেদন জমা দিয়েছেন স্কুল শিক্ষক আব্দুল্লাহ।
শুক্রবার (১২ অক্টোবর) তিনি সাংবাদিকদের জানান, ২০১৩ সালে বেকার থাকা অবস্থায় গুনারীতলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আঃ মান্নান সাহেবের এপিএস ও চরপাকেরদহ দিকপাড়ার সুরুজ মোল্লার ছেলে সুমনকে চাকুরী জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির থেকে ধার দেনা করে ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা প্রদান করেছিলাম । দীর্ঘদিন অপেক্ষা থাকার পর চাকুরী না হওয়ায় সুমনের কাছে টাকা চাইলে সুমন ২০১৩ সালের ১৪ জুন টাকা দিয়ে দিবে বলে আমার পরিবারকে তারিখ ধায্য করে সুমন ৷ সুমনের আত্মীয় হওয়ার সুবাদে ২০১৩ সালের ১৩ জুন আব্দুল্লাহ'র থেকে গুনারীতলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মান্নান বিষয়টি সমাধান করার জন্য দায়িত্ব নেন টাকা তিনি দিবে এই শর্ত দিয়ে ১ লাখ টাকা বালিজুড়ী বাজার থেকে দিয়ে দেয়৷ পরে আবারো তিন কিস্তিতে ৮০ হাজার টাকা প্রদান করে সাবেক চেয়ারম্যান মান্নান। এরপর থেকে অবশিষ্ট টাকা দিতে সময় কাল ক্ষেপণ করতে থাকে সাবেক চেয়ারম্যান মান্নান৷ এ বিষয়টি নিযে প্রতিকার চেয়ে একাধিকবার বিভিন্ন জায়গায় দিয়েও প্রতিকার পায়নি আব্দুল্লাহ৷
স্থানীয় সালাম, শফিক সহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির ঐ নেতা গুনারীতলা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান নির্বাচিত হওয়ার পর তার এপিএস ছিলেন তার ভাইরার ছেলে সুমন৷ এরপর বিভিন্ন জনের থেকে টাকা পয়সা নিয়ে আর ফিরিয়ে দেয়নি৷ উপজেলার বিভিন্ন জনের কাছ থেকে চাকুরীর নামে অর্থ আদায় করে। এই বিষয় গুলো নিয়ে কোন সালিশ দরবার হলে সুমনের পক্ষ নিয়ে সব কিছুর দায়িত্ব নিতো সাবেক চেয়ারম্যান মান্নান৷ ১৪ তারিখ জাহিদুল নামের এক ব্যক্তির সম্পুর্ন টাকা ফেরত দিলেও আব্দুল্লাহ টাকাটা সুমন না দিলে আব্দুল মান্নান দিবেন বলে দায়িত্ব নেয় সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপি,জেলা বিএনপি সহ বিভিন্ন জনের কাছে লিখিয় অভিযোগ দিয়েছে আব্দুল্লাহ ৷ কেউ সমাধান করতে পারেনি আব্দুল মান্নানের কারনে ৷
স্থানীয় আল আমিন জানান, আমার সামনেই টাকা দিয়েছিল। টাকা দিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও সময় কালক্ষেপন করে আসছে৷ তবে অভিযোগের বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান জানান, আমি এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত কথা বলব৷ এদিকে প্রতারক সুমন জানান, সুমনকে কল দেওয়া হলে নাম্বারটি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে আবেদন বিষয়ে জামালপুর জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক গোলাম রব্বানী জানান, একটি আবেদন পেয়েছি৷ জেলার সাধারণ সম্পাদক তিনি ঢাকা থাকায় কাগজটা দিতে পারিনি। এমন ঝামেলার কথা আগেও শুনেছি। বিষয়টা সমাধান হওয়া দরকার।
-রবিউল হাসান লায়ন-